বুধবার (৭ অক্টোবর) পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মাছ নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ট্রলার। ঘাটে ইলিশের আমদানি বেশি হলেও আকার ও ধরনভেদে দাম বেশ চড়া।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রের ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের বড় ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
অন্যদিকে স্থানীয় বা ‘লোকাল’ ইলিশের দাম আরও বেশি। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের লোকাল ইলিশের দাম ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
মেসার্স মক্কা ফিসের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন হিরু বলেন, “মাছের দাম খুব বেশি। শেষ মুহূর্তে স্বাভাবিক মাছের দাম কম থাকে কিন্তু এখন চড়া বাজার চলছে।” তাঁর ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে ঘাটে মাছের আমদানি বেড়েছে। তবে সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম কমেনি।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ট্রলার ঘাটে এসেছে। প্রতিটি ট্রলারেই কমবেশি মাছ ধরা পড়েছে। তবে মাছের দাম চড়া। সচরাচর এ সময়টা মাছের দাম অনেকটা কম থাকে। এ বছর ব্যতিক্রম।
জানা গেছে, পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে মাছ নিয়ে কমপক্ষে ৫০০টি ট্রলার এসেছে। এর মধ্যে ২০০ ও ৩০০ দুই দফায় ট্রলার এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের দিন ঘাটে মাছের বেচাকেনা জমে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত বাজার চলবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে জেলেরা তাদের আহরিত মাছ বিক্রি করে ঘাট ছাড়বেন।
আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় সাগর ও নদীতে মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আগে ঘাটে মাছের সরবরাহ বাড়লেও ইলিশের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে জেলেদের কাছে এই সময়টিই মাছ বিক্রি করে নিষেধাজ্ঞার আগে আয় নিশ্চিত করার শেষ সুযোগ।