শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোতে অনেক সময় খোলা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় খাবার রাখা হয়। ধুলাবালি ও নোংরা পরিবেশে এসব খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত পানি ও উপকরণের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফেনী সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন এলাকায় পরিদর্শনে যান জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল আরেফিন। এ সময় তিনি ফুচকা, চটপটি ও বেলপুরি বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়ে সচেতন করেন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি না করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল সরকার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম রহমানী ও ফেনী পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারাহ দিবা খানম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক বিপুল সরকার বলেন, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব খাবার বিক্রি করতে আমরা বার বার নিষেধ করে আসছি। এ ধরনের খাবার খেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পেটব্যথা করতে ও অসুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি করা ভ্রাম্যমাণ হকার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বিক্রি হওয়া খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়মিত তদারকির জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফেনী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল আরেফিন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতন করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খাওয়ার বিষয়ে সন্তানদের সতর্ক করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শুধু ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান উচ্ছেদ করলেই হবে না। নিয়মিত অভিযান, খাবারের মান পরীক্ষা, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।