সোমবার (৫ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত প্রধান শিক্ষক মো. নুর আজম মিরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করা হয়। ওই খাবার গ্রহণে আপত্তি জানান বিদ্যালয়ের দপ্তরি বাদশা। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. শাহাজুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে দপ্তরি বাদশাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর দপ্তরি বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মো. নুর আজমকে জানান। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি মেনে না নেওয়ার কথা জানালে তাঁকে সহকারী শিক্ষক মো. শাহাজুল ইসলাম, ইতি বেগম ও আতাউর রহমান বিভিন্নভাবে অপমান-অপদস্থ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলামের শ্বশুর ধাক্কামারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আওরঙ্গজেবের বাসায় প্রধান শিক্ষককে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের গত ১০ বছরের হিসাব-নিকাশ দেখতে চাওয়া হয় এবং তা উপস্থাপনের জন্য পাঁচ দিনের সময় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া স্কুল ফিডিংয়ের খাবার থেকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা এবং টাকা না দিলে তাঁকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক বাড়িতে ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে গেলে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম তাঁকে আগের দিনের নির্দেশনা মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাঁকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে প্রধান শিক্ষক মো. নুর আজমের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ এবং তাঁর ওপর কথিত নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।