স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকট এতটাই প্রকট যে রাত ও ভোরেও অনেক সময় চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সময়সূচিও ব্যাহত হচ্ছে।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো লাভ হয় না। শেষ পর্যন্ত কাঠের চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এভাবে চলা খুবই কষ্টকর।
সোনারগাঁ পৌরসভার পানাম এলাকার বাসিন্দা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করছি। কিন্তু রান্নার সময় গ্যাস না থাকায় কাঠ অথবা সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়তি খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে ধোঁয়ার কারণে ঘরের পরিবেশও খারাপ হচ্ছে।
গৃহিণী রিতা'র ভাষ্য, দিনের বেলায় তো গ্যাস পাওয়া যায়ই না, অনেক সময় গভীর রাত কিংবা ভোরেও চুলায় পর্যাপ্ত চাপ থাকে না। ফলে রান্নাবান্না নিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সোনারগাঁয়ের বাসিন্দারা। এছাড়াও সোনারগাঁ'য় বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য অবৈধ চুনা কারখানাগুলো নিয়মিত গ্যাস চুরি করে দিনে-রাতে চুনা পোড়াচ্ছে। যার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা গ্যাসের সামান্য চাপ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এলাকায় কৃত্রিম ও স্থায়ী গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। স্থানীয়রা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নানা পোস্ট ও মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মেঘনা শাখার ব্যবস্থাপক সুরজিত সাহা বলেন, গ্যাসের সংকট শুধু সোনারগাঁয়ের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সংকট। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে বিঘ্ন ঘটেছে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসের বরাদ্দ না পাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও গ্যাস চুরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গ্যাস সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের দ্রুত সমাধান চান সোনারগাঁয়ের ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও যদি রান্নার জন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।