বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নতুন করে ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনে আসা শুরু করে। পুরো চালানটি দেশে পৌঁছাতে আরও দু-একদিন সময় লাগতে পারে।
আমদানিতে জাহাজের সংকট চলতি মাসে সমুদ্রপথে ১৭টি জাহাজে করে ডিজেল আসার কথা থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৯টি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পেরেছে। একটি জাহাজ মাঝপথে থাকলেও বাকি ৭টি জাহাজের আগমন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের স্বল্পতা এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানির নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আমাদের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত তেল আসছে, তাই আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।’
পাইপলাইনেই মিলছে স্বস্তি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন’ এখন দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ডিজেল পৌঁছায়। সমুদ্রপথের তুলনায় পাইপলাইনে পরিবহন খরচও কম-প্রতি ব্যারেলে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৫ ডলার। চলতি মাসের ২৫ মার্চ ৫ হাজার টন এবং সর্বশেষ ৭ হাজার টনসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল এই পথে আনা হয়েছে।
চাহিদা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই মেটানো হয় ডিজেল দিয়ে, যার বড় অংশই ব্যবহৃত হয় কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সামনে বোরো মৌসুম আসায় ডিজেলে চাহিদা আরও বাড়বে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে পাইপলাইন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হলেও দেশের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা (Storage Capacity) বাড়ানো জরুরি। পর্যাপ্ত রিজার্ভ না থাকলে আমদানির সূচিতে সামান্য হেরফেরও বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে দ্রুত খালাস সুবিধার মাধ্যমে ৭ হাজার টন করে তেল আনা হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।