এই ঐতিহাসিক ইনিংসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন নেপালি ওপেনার কুশল ভুরতেল। চীনের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৪৩ বলে ১২৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ৫টি চার ও রেকর্ড ১৬টি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর এই ইনিংস।
ইনিংসে চীনের বোলার চেন জুও ইউয়ের এক ওভারে টানা ৬টি ছক্কা হাঁকান কুশল ভুরতেল। যুবরাজ সিং ও কাইরন পোলার্ডের মতো কিংবদন্তিদের পাশে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি। ওই ওভারে একটি ওয়াইডসহ মোট ৩৭ রান আসে, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ওভার। দীপেন্দ্র সিং আইরির পর নেপালের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ভুরতেল। ফলে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে নেপালের দুজন ব্যাটসম্যানের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ৬ ছক্কা মারার রেকর্ড তৈরি হলো।
কুশল ভুরতেল ছাড়াও পিটুনি দিয়েছেন অন্য ব্যাটাররাও। কুশল মাল্লা মাত্র ৪৭ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর অধিনায়ক রোহিত পাউডেল খেলেন মাত্র ২১ বলে ৬৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৭টি ছক্কা। পুরো ইনিংসে নেপালের ব্যাটসম্যানরা মোট ২৯টি ছক্কা হাঁকান, যা যৌথভাবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ বার ৩০০ রানের গণ্ডি পার হতে পেরেছে দলগুলো। এর মধ্যে নেপাল একাই এই কীর্তি গড়েছে দুবার।
দল | প্রতিপক্ষ | রান | সাল |
|---|---|---|---|
জিম্বাবুয়ে | গাম্বিয়া | ৩৪৪/৪ | ২০২৪ |
নেপাল | মঙ্গোলিয়া | ৩১৪/৩ | ২০২৩ |
নেপাল | চীন | ৩১৩/২ | ২০২৬ |
জার্মানি | অস্ট্রিয়া | ৩০৮/১ | ২০২৬ |
ইংল্যান্ড | দক্ষিণ আফ্রিকা | ৩০৪/২ | ২০২৫ |
বল হাতেও মাল্লার ম্যাজিক ও চীনের ধস
৩১৪ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপালি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে চীনের ব্যাটিং লাইনআপ। পুরো দল মাত্র ৯২ রানেই গুটিয়ে যায়।
ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলার পর বল হাতেও আলো ছড়ান কুশল মাল্লা। মাত্র ৮ বল বল করে কোনো রান না দিয়েই চীনের শেষ ৩টি উইকেট তুলে নেন তিনি। এ ছাড়া সোমপাল কামি ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে ২টি এবং সন্দীপ লামিছানে ৪ ওভারে ২৯ রান খরচায় ২টি উইকেট শিকার করেন। ২২১ রানের এই জয়টি রানের ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সপ্তম বৃহত্তম জয়।
বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘এ’-তে নেপালের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৪ জুন মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। অন্যদিকে, চীন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২ জুন মুখোমুখি হবে এই মালয়েশিয়ারই। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘বি’-তে অংশ নিচ্ছে হংকং, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন ও ওমান।