মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, সামিরুল ইসলাম কালু ও রিক্সা চালক গোলাম হোসেন সম্পর্কে খালাতো ভাই। গেল ২ মে গোলাম বাড়ির ফেরার পথে রিক্সার আঘাতে প্রতিবেশি বন্যা খাতুনের প্রাচীর ভেঙ্গে যায়। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডতা শুরু হয়। পরে প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
কথামতো পরদিন প্রাচীর নির্মাণ করে দেন গোলাম হোসেন। তবে টিনের ফটকটি লাগাতে পারেননি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে রিক্সা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে বন্যা খাতুন তার পথ রোধ করে। শুরু হয় তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডতা। এক পর্যায়ে বন্যা খাতুন ডেকে আনেন কালুকে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কালুর হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে গোলাম হোসেনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। তার চিৎকারে ছুটে আসেন তার স্ত্রী আলেয়া খাতুন ও প্রতিবেশীরা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন জানান, বন্যার পরকিয়ার বলি হলো তার স্বামী গোলাম হোসেন। কোন কারণ ছাড়ায় বন্যা তার স্বামীর উপর আক্রমন চালায়। আর তার ডাকে সাড়া দেয় পরকিয়া প্রেমিক সামিরুল ইসলাম কালু। খালাতো ভাই হয়েও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার স্বামীকে। এর সুষ্ঠু বিচার চান তিনি। দুই মেয়ের সংসার তার। স্বামীকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।
ওসি বলেন, আসামীকে আটকের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে। দ্রুত তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।