তিন দিনে তিনটি ভিন্ন অবস্থান আসলে একটি রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলছে; তেহরান যত বড় হামলার শিকারই হোক না কেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো লক্ষণ তারা দেখাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপাকে ফেলার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন নিজের তৈরি করা এক ‘লোহার খাঁচায়’ বন্দি হয়ে পড়েছে। এই খাঁচা থেকে বের হওয়ার কোনো সম্মানজনক পথ খুঁজে না পেয়ে ট্রাম্প যেন দেয়ালের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আছড়ে পড়ছেন।
ইরানের সঙ্গে চুক্তির নতুন যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তার শর্তগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৫ সালের যে পরমাণু চুক্তি ট্রাম্প ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলেন, নতুন প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত তার কাছাকাছিই হতে পারে। তখনকার চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। ট্রাম্প যদি এখন ১২ বা ১৫ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার শর্তে চুক্তি করেন, তবে একে তিনি নিজের বিজয় বলে দাবি করতেই পারেন। কিন্তু এই কথিত বিজয়ের জন্য যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করার মতো নয়।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের মিনাবে নিহত ১২০ জন স্কুলশিক্ষার্থী এবং লেবাননের অসংখ্য হতাহত রয়েছেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে। সবচেয়ে বড় কথা, অবিরাম বোমাবর্ষণ ইরানের শাসকদের ক্ষমতাকে দুর্বল করার পরিবর্তে বরং কট্টরপন্থী ও সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইরানের সঙ্গে চুক্তির এই অগ্রগতি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং এখনো অনেক কিছু অস্পষ্ট। তবে যদি শেষ পর্যন্ত এই শান্তি পরিকল্পনা সফলও হয়, তবুও ইতিহাসে এই সংঘাতটি একটি ‘অর্থহীন যুদ্ধ’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। নিজের তৈরি করা সংকটে ট্রাম্পের এই অস্থিরতা প্রমাণ করে যে, সঠিক দূরদর্শিতার অভাবে কত বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।