এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
‘ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা জরুরি।
এ জন্য প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে যুগোপযোগী, সমন্বিত ও কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
নীতিমালায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ, শিক্ষানবিশকাল ও চাকরি স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, বেতন-ভাতা, চাকরি-পরবর্তী সুবিধা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও পদাবনমন এবং পদায়ন ও বদলির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শীর্ষ নির্বাহী ও ‘সি-স্যুট’ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য উত্তরাধিকার পরিকল্পনা, চাকরির অবসান, পদত্যাগ, চাকরিচ্যুতি ও পুনঃনিয়োগ, ছুটি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা, স্বার্থের সংঘাত, দাপ্তরিক গোপনীয়তা এবং হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষার বিষয়ও নীতিমালায় রাখতে হবে।
নতুন বা হালনাগাদ করা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাধ্যতামূলক প্রচার
নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে যেসব প্রারম্ভিক পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, সেসব পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট, জনপ্রিয় জব পোর্টাল এবং অন্তত দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
প্রারম্ভিক পদের মধ্যে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও), সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার, ট্রেইনি ক্যাশ অফিসার, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার, ক্যাশ অফিসার বা সমপর্যায়ের পদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়োগ
এসব পদে সরাসরি বা অনলাইন অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।
এন্ট্রি পদ ছাড়া অন্যান্য উচ্চতর বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পদে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এসব নিয়োগে অন্তত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষাগত সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক
নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করতে হবে।
একই সঙ্গে সার্কুলার জারির আগে নিয়োগ পাওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের কাজও ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
চাকরিতে যোগদানের পর কোনো কর্মকর্তা পদোন্নতি বা অতিরিক্ত আর্থিক কিংবা অনার্থিক সুবিধার জন্য নতুন কোনো পেশাগত বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল করলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তা যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ভুয়া সনদে কঠোর ব্যবস্থা
তদন্তে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাশাপাশি ওই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিএমএমএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং খাতে নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মেধার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।