পাম্পে তেল না থাকার আড়ালে গোপনে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করছে।
ঈদের পরদিন থেকেই মতিঝিল, মালিবাগ, পল্টন, শান্তিনগর, মুগদা, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে সংকট দেখা গেছে। অনেক পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। সীমিত পরিমাণ তেলও দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে হতাশ হয়ে ফিরছেন গ্রাহকরা।
যেসব পাম্পে অল্প তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর সামনে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় তেল পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, কখনও কোথাও বাগবিতণ্ডার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু কর্মচারী ও ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। পাম্পে প্রকাশ্যে তেল না থাকলেও নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে গোপনে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে।
খোলাবাজারেও তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। মুগদা, মানিকনগর ও বনশ্রী এলাকায় ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন যথাক্রমে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম যথাক্রমে ১১৬ ও ১২০ টাকা।
অন্যদিকে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা বলেন, সরবরাহ কম হওয়াই সংকটের মূল কারণ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সীমিত থাকায় তারা বাধ্য হয়ে অল্প পরিমাণ তেল বিতরণ করছেন। ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে কর্মচারীরাও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশে গিয়ে সংকট সৃষ্টি করেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করছে।
সরকার অবৈধ মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ঘোষণা দিয়েছে, অবৈধভাবে তেল মজুত বা পাচারের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।