হয়তো সে অপেক্ষা করে দরজার দিকে তাকিয়ে। ভাবে, আজ বাবা আসবেন। তাকে আগের মতো বুকে জড়িয়ে নেবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা প্রতিদিনই অপূর্ণ থেকে যায়।
মো. রাসেল আকন (৩০) স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া করে ভালো চাকরি করবেন, গরিব ও অসহায় বাবার সংসারে সহযোগিতা করবেন কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ক্যান্সার নামক ঘাতক সেই স্বপ্ন তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।এইতো কয়েকদিন আগেও টলটলে চেহারা, হাসি মাখা মুখ। কিন্তু আজ সেই হাসি মাখা মুখে হাসি নেই। আছে শুধু অশ্রু জলে ভেজা মুখ। একজন মায়ের নীরব কান্না, একজন বাবার অসহায় দৃষ্টি, একজন স্ত্রীর বুকভরা অপেক্ষা—সব মিলিয়ে যেন এক অনন্ত যুদ্ধ।
দুই মাস আগে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে রাসেল আকনের। অনার্স শেষ করে ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। ক্যান্সার ধরা পড়ার খবর শুনেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রাসেলের বাবা একজন সাধারণ মাছ বিক্রেতা। সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে আগলে রেখেছেন। কিন্তু আজ নিজের ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড় অসহায়ত্ব আর কী হতে পারে?
কথা হয় রাসেলের সাথে। তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন ছিলো, বিয়ের পর আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। গরীব হলেও সুখের সংসার আমাদের। নিজের মরনব্যাধী ক্যান্সার হয়েছে কিন্তু আমার সন্তানের জন্য কষ্ট লাগে। আমি চলে গেলে আমার মেয়ের কি হবে। কীভাবে থাকবে।
রাসেলের মা হাসিনা বেগম বলেন, আমার একমাত্র সন্তান আজ ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাবার কতো কষ্ট অইতেছে। ওর যন্ত্রনা আমি সইতে পারি না।
অন্যদিকে রাসেলের স্ত্রী প্রতিটি দিন শুরু করেন একটুকরো আশা নিয়ে। হাসপাতালের প্রতিটি রিপোর্ট, প্রতিটি চিকিৎসা, প্রতিটি নতুন সকাল—সবকিছুতেই তিনি খুঁজে ফেরেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসার একটি খবর। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন রাসেল আবার ঘরে ফিরবেন।
রাসেলের প্রতিবেশী মনির হোসেন বলেন, রাসেলের পরিবার খুব গরীব। আমাদের সকলের সহযোগীতায় রাসেল এতো দুর লেখাপড়া করেছে। আজ আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে, বিশ্বাস করতে পারছি না। সকলের কাজের জন্য দোয়া ও সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।
সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম- বিকাশ / নগদ / রকেট: ০১৯৪৫৩৯১৩৭৮, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, হিসাবের নাম: মো. রাসেল আকন, হিসাব নম্বর: ১১০১৫১০১০৮৭৩৫
শাখা: ধানমন্ডি শাখা।