বর্তমানে স্বাস্থ্যগত কারণে ভাতা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২৮ লাখ মানুষকে কাজ খোঁজা বা কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতার আওতায় রাখা হয়নি। গত এক বছরে এ সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৩১ হাজার বেড়েছে। এক বছর আগে স্বাস্থ্যগত কারণে করা দাবির হার মোট ইউনিভার্সাল ক্রেডিট মামলার ৩৪ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
নতুন স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত দাবির ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ আবেদনকারী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের দাবিদারদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি; মোট দাবিদারের ৫৩ শতাংশই নারী। এ ছাড়া ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এই শ্রেণির দাবিদারদের ৪৩ শতাংশ।
আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কটল্যান্ডে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যগত কারণে ভাতা নেওয়ার হার সবচেয়ে বেশি, যা ৫১ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে ইংল্যান্ডের নর্থ ইস্ট অঞ্চল, যেখানে এ হার ৪৭ শতাংশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ইনভারক্লাইডে এই হার সর্বোচ্চ ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে রাজধানী লন্ডনে এ হার সর্বনিম্ন, ৩৫ শতাংশ।
ভাতা দাবির এই বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিফর্ম ইউকের চেয়ারম্যান লি অ্যান্ডারসন। তিনি বলেন, এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে কল্যাণভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রকৃত অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত দাবির ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অ্যান্ডারসন জানান, রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষকে কর্ম-অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া বন্ধ করে সামনাসামনি মূল্যায়ন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেবে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি দাবি করেছে, দাবির এই বৃদ্ধি মূলত নতুন সুবিধাভোগী বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং পুরোনো ভাতা ব্যবস্থা থেকে মানুষকে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে স্থানান্তরের ফল।
ডিডব্লিউপির এক মুখপাত্র বলেন, গত এক বছরে স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবির বৃদ্ধির প্রায় ৭২ শতাংশই আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের আওতায় অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুরোনো ভাতা ব্যবস্থা থেকে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি ভাতা হারানোর ঝুঁকি ছাড়াই কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকার প্রবণতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।