মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও অংশ নেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সংবাদপত্র শিল্প বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে এবং এর টিকে থাকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হলে তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, স্বাধীন সাংবাদিকতা বা প্রেস ফ্রিডমের বিষয়ে আলোচনা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে বিরূপ করতে চান না এবং উদার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে চান। সম্পাদকরা এ অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান নোয়াব সভাপতি।
এছাড়া সরকারের কাছে গণমাধ্যমের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়েও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়েজবোর্ড নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে মতিউর রহমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত বৈঠকের উদ্যোগ। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতি তিন মাসে একবার আমরা বসব। এতে সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে যে দূরত্ব আছে, তা অনেকটাই কমে আসবে।”