মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের উল্লম্ফনের কারণে এই সমন্বয় অনিবার্য ছিল। অর্থনীতির ন্যূনতম স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি মূলত চাহিদা বৃদ্ধি বা উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় খাদ্য ও বাসাভাড়ায়।
মন্ত্রী বলেন, “জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত যে প্রভাব, তা এতই সীমিত যে খাদ্যমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—আমাদের হিসাব তাই বলছে।”
গত শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে ডিজেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা। এতে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ হবে প্রায় ৪৫০ টাকা, যা খাদ্যমূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির প্রভাব যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর না পড়ে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। টিসিবির মাধ্যমে ৭৮ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে চাল-তেল সরবরাহ এবং বিশেষ সময়ে চিনি ও ট্রাকসেলের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ঘাটতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে সরকার এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।