শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করার পাশাপাশি তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার দাবি, “বগুড়ার উপনির্বাচনকে আরেকটি মাগুরা হতে দেওয়া হবে না।
”লিখিত বক্তব্যে তিনি একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী দলীয় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, নারী কর্মীদের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, উঠান বৈঠক ও সমাবেশ প- করতে ভয়ভীতি ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ব্যানার-ফেস্টুন খুলে ফেলা ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পোস্টার টাঙানোর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে মোট ১৫টি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে, যার সাথে ভিডিও প্রমাণও সংযুক্ত রয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগের বড় অংশজুড়েই রয়েছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ। তার বক্তব্য “প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন “ভোট ডাকাতির চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।”এই বক্তব্য নির্বাচনী মাঠে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে তিনি প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল, নির্বাচনপূর্ব ও ভোটের দিন সেনাবাহিনীসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, মাঠের বাস্তবতা: বাড়ছে উত্তেজনা, বাড়ছে নজরদারি এই অভিযোগগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে এবং ভোটের দিন ঘনিয়ে আসছে। পোস্টার, মিছিল, পথসভা—সবকিছু মিলিয়ে বগুড়া-৬ এখন একটি উচ্চ-সংবেদনশীল রাজনৈতিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,“এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনের আগে উত্তেজনা বাড়ায়, যা ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।” যদিও অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন এখন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং আস্থা ও নিরপেক্ষতার পরীক্ষাও হয়ে দাঁড়িয়েছে। “মাগুরা স্টাইল” নিয়ে আশঙ্কা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং মাঠের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ভোটের আগে পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল। এখন দেখার বিষয় অভিযোগের এই ঝড় পেরিয়ে ভোট কি সত্যিই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, নাকি নতুন করে জন্ম দেয় আরও বিতর্কের?