শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খালখনন কর্মসুচির উব্দোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ধারণ করে। বিএনপি জুলাই সনদকে চেতনায় ধারণ করে। জুলাই সনদ এদেশের ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে লিখিত।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদই বলছে, আমাকে বাস্তবায়ন করো সংবিধান সংশোধনের মধ্যদিয়ে। এটা জুলাই সনদে সুস্পষ্ট ভাবে লিখিত আছে। সুতরাং, যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, এটা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই যে জুলাই গণভোট অধ্যাদেশ বলছেন, এটাও তো রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ। এই গুলো মানতে পারবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করতে চান। অথচ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় উনারা বয়কট করলেন, বললেন উনারা ভাষণ শুনবেন না। এইটা হলো জামাতি চরিত্র। এইটা হলো মুনাফিকি চরিত্র।’
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদ বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে গেছে আপনাদের। জুলাই সনদের ২২ নম্বর ক্লজে লেখা আছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীদের প্রার্থী করবে। বিএনপি প্রায় ৫ শতাংশ নারীকে প্রার্থী করেছে, যদিও ৫ শতাংশ পুরোপুরি পারেনি।
জ্বালানি তেল সংকটে আইনী প্রয়োগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এক শ্রেনির মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তেল বোতলে ভরে, ড্রামে ভরে রেখে আবার তারা তেল নিতে আসছে। আমরা এতদিন সফট (নমনীয়) লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে প্রয়োজনবোধে কঠোর শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব। এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
জ্বালানি তেলে সংকট রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হোন। আপনাদের সাথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবেন।’
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে সরকার। অবৈধ মজুদকারি ও কালোবাজারির মাধ্যমে সংকট তৈরি করলে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলেও আগে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন,তেলের সংকট প্রকৃত নয়,বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষ একই দিনে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা বাসায় মজুদ করছে এবং পরে বোতল বা ড্রামে সংরক্ষণ করে আবার তেল নিতে আসছে। এভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন,এতদিন সরকার নমনীয় অবস্থানে ছিল। তবে এখন প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় থাকা কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হবে,যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডও রয়েছে। এ জন্য প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন,কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মী এই কাজে জড়িত থাকলে তাদের আগে গ্রেপ্তার করতে হবে। কেউ যদি অপরাধীদের পক্ষে তদবির করে,তাকেও সহযোগী হিসেবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।
অপরদিকে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে খাল নদীখনন ও দখল উচ্ছেদের বিকল্প নেই। যে যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন খাল জলাশয় ও নদী দখলমুক্ত করে খনন করা হবে। আগামী ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খান খনন কর্মসুচীতে অংশ নিবেন বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।