শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ৪ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
আদেশে জেলার চারটি পৌরসভা, সুনামগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর ও দিরাই পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পৌরসভায় একটি করে জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু, সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র, উদ্ধারকারী নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ১২টি উপজেলায় আগেই জিআর চাল পাঠানো হয়েছে এবং শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ (ডিআরআরও) সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং এবং প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলার সব উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৪৭-৯৭৮৯৫৬ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।