সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কার্যক্রম চালু করা বা অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়েও ভাবছে সরকার। তবে এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সব সরকারি সংস্থাকে নিজ নিজ প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় অফিসগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বলা হয়েছে। নির্দেশনায় দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা, প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার এবং বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি অফিসে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যা তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখন তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, এবং সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।