জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার আমের খান ক্যাম্প নিয়ে বলেন, ‘বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা আগামী পরশু দিন যোগ দেবেন ক্যাম্পে। আগামীকাল দুপুরের মধ্যে অন্যরা রিপোর্টিং করবেন। কাল অনুশীলন হবে কি না সেটা কোচের উপর নির্ভর করছে। হামজা-সামিত-জায়ান সানমারিনো যাবে সরাসরি।’ সানমারিনো ইতালির মধ্যে একটি দেশ। তাই বাংলাদেশ দল ইতালির ট্রানজিট ভিসা নিচ্ছে। ৩১ মে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ দলের ঢাকা ত্যাগ করার কথা।
হামজারা সান মারিনোতে নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে খেলবেন। থমাস ডুলি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও বাফুফে এখনো ডুলিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি করেনি। যেখানে বিগত কোচরা আসার দিনই বিমানবন্দরে অথবা বাফুফে ভবনে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতেন।
হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার উত্তরসূরি নিয়ে অনেক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা ছিল। বাফুফে শেষ পর্যন্ত জার্মান-আমেরিকান থমাস ডুলির উপর আস্থা রেখেছে। খেলোয়াড় ও কোচ উভয় দিক থেকে তিনি হাইপ্রোফাইল হলেও বাফুফের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে রয়েছে ধোয়াশা। বাফুফে দুই বছরের জন্য কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। কত দিনের চুক্তি হয়েছে সেই বিষয়টি ধোয়াশার মধ্যে। তবে জানা গেছে, হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা যেখানে পেতেন মাসে সাড়ে ১৩ হাজার ইউরো সেখানে বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার ডুলিকে এর চেয়ে কম দিতে পারবে বাফুফে।
জাতীয় দলের কোচের বিষয়টি দেখভাল করে জাতীয় দল কমিটি। সেই কমিটির একাধিক সদস্যই কোচের চুক্তির বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। কারণ কমিটির চেয়ারম্যান ও ফেডারেশন সভাপতি তাবিথ আউয়ালই জানেন মূলত। আজ বিকেলে জাতীয় দল কমিটির সভা ডাকা হয়েছিল। সকালের দিকে আবার সেই সভা বাতিল করা হয়। এতে অনেক সদস্য খানিকটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের সভা হলে কোচ ও আনুষাঙ্গিক বিষয়ে জানতে পারব ভাবছিলাম। কাল রাতে সভা আহ্বান করে আবার সকালে বাতিল হয়েছে। আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই এক অনুষ্ঠানে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে কোচকে। চুক্তি-মেয়াদ ও কোচের সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে সেভাবে কিছুই জানি না।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গতকাল ফুটবলের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কোচের সঙ্গে এখনো চুক্তি হয়নি। সান মারিনো ম্যাচ দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।' ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে বাফুফে সভাপতি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বাফুফে তাদের নিজস্ব নিয়মে কাজ করছে সামনে এই বিষয়ে অবহিত করবে বলে জানান। মন্ত্রীর মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলায় ফুটবলপ্রেমীরা ডুলির মেয়াদ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন।