গত ২৫ আগষ্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন আলাল হোসেন। চার দিন পর ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে কফিনবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ পৌঁছায় গ্রামের বাড়িতে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা।
নিহত আলাল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের খেড়ু মন্ডলের ছেলে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবং ভবিষ্যৎ সুন্দর করার আশায় প্রায় ১৩ মাস আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আলাল। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই দেশে ফেরার কথা ছিল তার।
নিহত আলালের বাবা খেড়ু মন্ডল জানান, পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে দ্রুতই দেশে ফেরার কথা ছিল আলালের। কিন্তু একটি বিস্ফোরণ তাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।
এদিকে ছেলের কফিন দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আলালের মা ফাতিমা খাতুন। সন্তান হারানোর শোকে কথা বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। বুক চাপড়ে কান্না করছেন আর বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই থামছে না আহাজারি।
আলালের শ্বাশুড়ি সুফিয়া খাতুন জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আলালের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। দূর প্রবাসে থেকেই সন্তানের জন্মের খবর পান তিনি। তখন থেকেই ছেলেকে একবার কোলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন আলাল। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই দেশে ফিরে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন এমন স্বপ্নই দেখতেন তিনি।
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেল তার জীবন। যে সন্তানের মুখ দেখার জন্য দিন গুনছিলেন, সেই সন্তানই এখন বাবার কফিনের পাশে। বাবার কোলে ওঠার আগেই হারালো বাবাকে।
প্রতিবেশী আরাফাত হোসেন জানান, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, স্বচ্ছল জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন আলাল। পরিবারকে ভালো রাখার সেই মানুষটিই আজ ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। সব মিলিয়ে আলালের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।