শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

ফিচার-লাইফস্টাইল

সন্তান ধারণের প্রযুক্তি: সম্ভাবনা, বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত পছন্দ

সন্তান ধারণের প্রযুক্তি: সম্ভাবনা, বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত পছন্দ

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা সাধারণত একটি দম্পতির একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে, একটি দম্পতি জীবনের ঠিক কোন পর্যায়ে সন্তান নেবেন, প্রজননগত জটিলতায় সন্তান না হলে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, কিংবা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তা নেবেন কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সবসময় কেবল তাঁদের নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছায় নির্ধারিত হয় না। কারণ, এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পেছনে পরিবার, আত্মীয়স্বজনের আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশা, দম্পতির অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং সমাজে প্রচলিত মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের সনাতন ধারণা গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানকে প্রায়ই বিবাহিত জীবনের একমাত্র স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত পরিণতি হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে সন্তানহীনতা আর কেবল দম্পতির একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা চিকিৎসাগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং, তা হয়ে ওঠে পারিবারিক সামাজিক সম্পর্ক, বংশরক্ষা এবং ব্যক্তির সামাজিক পরিচয়ের একটি জটিল প্রশ্ন। সন্তান নেওয়ার ‘স্বাধীনতা’ কতটা স্বাধীন?

বিয়ের কয়েক বছর পার হলেই প্রশ্নটা আসে: ‘বাচ্চা কই?’ আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াতে, চায়ের দোকানে, এমনকি অফিসের আড্ডায়ও। নতুন প্রজনন প্রযুক্তি সম্ভাবনা বাড়িয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্তের ওপর সামাজিক চাপ কমায়নি।

নতুন প্রজনন প্রযুক্তি (NRT) সন্তান ধারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF), শুক্রাণু ও ডিম্বাণু দান এবং সারোগেসির মতো পদ্ধতি এমন দম্পতিদের আশা দিয়েছে, যাঁদের সামনে একসময় প্রায় কোনো পথ ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সন্তান নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা কতটা ব্যক্তিগত, আর কতটা পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশায় গড়া? এই বাস্তবতায় নতুন প্রজনন প্রযুক্তির আওতায় আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি সন্তান ধারণে বাধা ও জটিলতার সম্মুখীন দম্পতিদের সামনে নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

নিঃসন্দেহে এসব প্রযুক্তি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী ও স্মরণীয় অগ্রগতি। তবে নৃবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই প্রশ্নটি কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞান কীভাবে প্রযুক্তিগতভাবে সন্তান জন্মদানে সহায়তা করছে, তার মধ্যে সীমিত নয়। বরং, নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের গভীরভাবে দেখতে শেখায় যে প্রজনন প্রযুক্তির এই নতুন সুযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্তটি কীভাবে সমাজের গভীরে থাকা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতার অনুক্রম, প্রজনন চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রেণিগত ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সর্বোপরি পরিবার ও আত্মীয়তার (Kinship) প্রচলিত সামাজিক ধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সন্তান না থাকার অভিজ্ঞতা বা পরিস্থিতি প্রত্যেক মানুষের জীবনে এক রকম নয়।

কেউ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছাতেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কেউ ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার বা জীবনের অন্যান্য অগ্রাধিকার বিবেচনা করে সন্তান নেওয়ার সময় পিছিয়ে দেন, আবার কেউ সন্তান পাওয়ার তীব্র আকুলতা থাকা সত্ত্বেও জৈবিক বা প্রজননসংক্রান্ত নানাবিধ শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হন। এই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতাগুলোকে একটিমাত্র সমীকরণে মিলিয়ে দেখলে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ, জীবনের নানা পরিস্থিতি এবং বাস্তবতার বৈচিত্র্যময় দিকগুলো আড়াল হয়ে যায়। একইভাবে, সন্তানহীনতার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতিটি দম্পতিই যে সামাজিকভাবে একই ধরনের চাপ বা সংকটের মুখোমুখি হন এমন ঢালাও ধারণা করাও ঠিক নয়।

তবে, আমরা যখন এমন একটি সামাজিক কাঠামোতে বাস করি, যেখানে সন্তান জন্ম দেওয়াকে বিবাহিত জীবনের একমাত্র স্বাভাবিক, পূর্ণাঙ্গ ও অপরিহার্য পরিণতি হিসেবে দেখা হয়, তখন সন্তান না থাকার বিষয়টি আর দম্পতির চারদেয়ালের ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা ধীরে ধীরে স্বজন ও পারিপার্শ্বিক মানুষের কৌতূহল ও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে আত্মীয়স্বজনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন, পরিবারের সূক্ষ্ম প্রত্যাশার চাপ কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে বাইরের মানুষের নানা অনুমান—এসব কারণে সন্তান নেওয়ার মতো একটি গভীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সামাজিকভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রজনন চিকিৎসার শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল সন্তান পাওয়ার আকুলতাই কাজ করে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে সমাজে নিজের সামাজিক অবস্থান ও স্বীকৃতি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৃবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সন্তান ধারণের প্রশ্নটি কেবল আবেগীয় বা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; এটি বংশানুক্রম এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোতে বংশীয় ধারা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদের হস্তান্তরের জন্য স্বীকৃত উত্তরাধিকারী হওয়াকে অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। সন্তানহীনতা তাই কেবল ব্যক্তিগত শূন্যতা তৈরি করে না, বরং সামাজিক পরিচয় রক্ষা ও পারিবারিক সম্পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের কাঠামোগত অনিশ্চয়তা তৈরি করে। ফলে নতুন প্রজনন প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়ার পেছনে কেবল সন্তান লাভের ইচ্ছা নয়, বরং বংশ রক্ষা এবং সম্পত্তির আইনি ও সামাজিক স্বত্ব নিশ্চিত করার তাগিদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই সামাজিক বাস্তবতার পেছনে প্রোনাটালিজম বা সন্তান জন্মদানকেন্দ্রিক বিশেষ সামাজিক মূল্যবোধের ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোনাটালিজম (Pronatalism) হলো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের এমন একটি কাঠামো, যেখানে সন্তান জন্মদানকে কেবল দম্পতির ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। বরং, একে পারিবারিক পূর্ণতা, বংশরক্ষা এবং একটি অপরিহার্য সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রোনাটালিস্ট দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সন্তান ধারণের ইচ্ছাটি কেবল মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মনস্তাত্ত্বিক পছন্দ হিসেবে থাকে না—তা একপর্যায়ে সামাজিকভাবে প্রত্যাশিত আচরণে পরিণত হয়।

সামাজিক প্রত্যাশা বা কাঠামোগত চাপ বিদ্যমান থাকা মানেই যে একজন মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তটি মিথ্যা, আরোপিত বা অনিচ্ছাকৃত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল হবে। বাস্তবতার চিত্রটি আরও বহুমাত্রিক: একজন মানুষ একই সঙ্গে অন্তরের অন্তস্তল থেকে সন্তান চাইতে পারেন, আবার একই সময়ে পরিবার ও সমাজের পক্ষ থেকে আসা সূক্ষ্ম বা প্রত্যক্ষ চাপও অনুভব করতে পারেন।

প্রজননের দায় কেন নারীর শরীরে কেন্দ্রীভূত হয়?
প্রজননসংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হলে দম্পতির দুজনেরই চিকিৎসাগত মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সামাজিক আলোচনায় অনেক সময় নারীর শরীরকেই সমস্যার প্রধান স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নারীর বয়স, মাসিক, গর্ভধারণের সক্ষমতা কিংবা মাতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে; বিপরীতে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই পার্থক্য কতটা এবং কোন পরিস্থিতিতে দেখা যায়, তা নির্দিষ্ট গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। নারীবাদী নৃবিজ্ঞান দেখায় যে শরীরের অভিজ্ঞতা শুধু জৈবিক নয়; সামাজিক মূল্যবোধও সেই অভিজ্ঞতার অর্থ নির্ধারণ করে। মাতৃত্বকে যদি নারীর পরিচয়ের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে গর্ভধারণে অসুবিধা একজন নারীর কাছে চিকিৎসাগত সমস্যার পাশাপাশি আত্মপরিচয় ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

তাঁর ওপর চিকিৎসা নেওয়ার চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা পূরণের দায় কিংবা নিজের শরীর সম্পর্কে অপরাধবোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। IVF-এর মতো চিকিৎসায় হরমোন প্রয়োগ, পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। চিকিৎসাগতভাবে এসব প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। কিন্তু নৃবৈজ্ঞানিক প্রশ্ন হলো, চিকিৎসার অভিজ্ঞতাটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন, আবেগ, সময় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কীভাবে প্রভাবিত করে। চিকিৎসার সাফল্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলতে থাকলে ব্যর্থ প্রচেষ্টা, মানসিক চাপ এবং চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের মতো অভিজ্ঞতাও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

এখানে বায়োপাওয়ার বা জৈব-ক্ষমতার ধারণা প্রাসঙ্গিক। মিশেল ফুকোর এই ধারণা ব্যাখ্যা করে কীভাবে শরীর, স্বাস্থ্য, জন্ম এবং জনসংখ্যা সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রজনন চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ধারণা দিয়ে প্রশ্ন করা যায়: কোন ধরনের শরীরকে চিকিৎসার উপযোগী বলে বিবেচনা করা হয়, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে কার মতামত বেশি গুরুত্ব পায় এবং সন্তান জন্মদানের সাফল্যকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? এর অর্থ এই নয় যে চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রজনন প্রযুক্তি নিজেরাই নিপীড়নের সমার্থক। বরং প্রযুক্তি মানুষের সুযোগ বাড়াতে পারে, আবার সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিছু মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপও তৈরি করতে পারে। এই দুই সম্ভাবনাকে একসঙ্গে বিবেচনা করাই জরুরি।

সিদ্ধান্তটা কার? একার?
আমরা সাধারণত সন্তান নেওয়াকে দম্পতির একান্ত বিষয় ভাবি। বাস্তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে পরিবারের আকাঙ্ক্ষা, আত্মীয়দের প্রত্যাশা, আর্থিক সামর্থ্য এবং মা-বাবা হওয়া নিয়ে সমাজের পুরোনো ধারণা। বাংলাদেশের মতো সমাজে, যেখানে বিয়ের পর সন্তান জন্ম দেওয়াকেই স্বাভাবিক পরিণতি ধরা হয়, সন্তানহীনতা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে বংশরক্ষা ও সামাজিক পরিচয়ের প্রশ্ন।

নৃবিজ্ঞানে এই ধারণাকে বলা হয় প্রোনাটালিজম, অর্থাৎ সন্তান জন্ম দেওয়াকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার কাঠামো। তবে সবাই এই চাপ একইভাবে অনুভব করেন না। কেউ নিজের ইচ্ছায় সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কেউ ক্যারিয়ারের কথা ভেবে অপেক্ষা করেন, আবার কেউ তীব্র আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হন। এই ভিন্ন অভিজ্ঞতাগুলোকে এক ছাঁচে ফেলা ঠিক নয়।

চিকিৎসার সুযোগ, ব্যয় ও বৈষম্য
প্রজনন প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনায় প্রায়ই প্রযুক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ সবার সমান কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রজনন চিকিৎসার ব্যয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াত, একাধিকবার চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সক্ষমতা—এসব বিষয় একজন মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য বেশি, তাঁরা চিকিৎসার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করার তুলনামূলক বেশি সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে চিকিৎসা শুরু করা, চালিয়ে যাওয়া কিংবা একাধিক প্রচেষ্টার ব্যয় বহন করা কঠিন হতে পারে। ফলে প্রযুক্তি তাত্ত্বিকভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাস্তবে সেই সম্ভাবনায় প্রবেশের সুযোগ শ্রেণিভেদে আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশের প্রজনন চিকিৎসার প্রকৃত ব্যয় ও প্রবেশাধিকারের পার্থক্য বোঝাতে নির্ভরযোগ্য স্থানীয় তথ্য প্রয়োজন; নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া বৈষম্যের মাত্রা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়। এখানে নৃবিজ্ঞানের রাজনৈতিক অর্থনীতি আমাদের দেখার একটি পথ দেয়।
 

এটি প্রশ্ন করে, চিকিৎসা প্রযুক্তি কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, চিকিৎসার খরচ কে বহন করছে এবং চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে। চিকিৎসাকে শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখলে এই বৃহত্তর কাঠামোগত পার্থক্যগুলো অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।
 

গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রজনন চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক বিচার বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের আশঙ্কা থাকলে কেউ চিকিৎসার অভিজ্ঞতা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু গোপনীয়তা রক্ষা করা আর সামাজিকভাবে কলঙ্কিত হওয়ার ভয়ে নীরব থাকতে বাধ্য হওয়া এক বিষয় নয়। প্রথমটি ব্যক্তির অধিকার; দ্বিতীয়টি তাঁর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সীমিত করতে পারে। এই পার্থক্য বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও তাঁদের নিজস্ব ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রযুক্তি কীভাবে আত্মীয়তার ধারণা বদলায়?
নৃবিজ্ঞানে আত্মীয়তা বা কিনশিপ কেবল রক্তের জৈবিক সম্পর্কের সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। আত্মীয়তার সামাজিক ভিত্তি গড়ে ওঠে মূলত স্বীকৃতি, আন্তব্যক্তিক দায়িত্ব, পারস্পরিক যত্ন, উত্তরাধিকার, বিবাহ এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের নানা বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে। তবে আধুনিক নতুন প্রজনন প্রযুক্তি (New Reproductive Technologies—NRT) আত্মীয়তার এই চিরচেনা ও ঐতিহ্যগত রূপরেখা নিয়ে নতুন নতুন মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)-এর ক্ষেত্রে নিষেকের প্রক্রিয়াটি মানবশরীরের বাইরে পরীক্ষাগারে সম্পন্ন হয়, যা প্রজননের জৈবিক ধারণায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করে। বিশেষ করে ডিম্বাণু বা শুক্রাণু দানের মাধ্যমে সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুর জৈবিক উৎস, গর্ভধারণের দৈহিক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিকভাবে মা-বাবা হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার সম্পর্ক একাধিক ভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে।
 

একইভাবে সারোগেসির ক্ষেত্রে, যিনি নয় মাস ধরে গর্ভধারণ ও সন্তান ধারণ করছেন এবং যাঁরা পরবর্তী সময়ে অভিভাবক হিসেবে সন্তানকে লালন-পালন করছেন—তাঁদের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যেতে পারে। ফলে মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের একক সত্তার ধারণাটি এখানে বিভিন্ন মাত্রায় বিভক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

তবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ও শারীরিক অভিজ্ঞতা সব সমাজে বা সব পরিবারে একই সাংস্কৃতিক অর্থ বহন করে না। নৃবিজ্ঞানী সারা ফ্র্যাঙ্কলিনের (Sarah Franklin) IVF-বিষয়ক গবেষণা স্পষ্টভাবে দেখায় যে প্রজনন প্রযুক্তি কেবল সন্তান জন্মদানের একটি চিকিৎসাগত সহায়তা মাত্র নয়; এটি সামগ্রিকভাবে প্রজনন এবং আত্মীয়তার প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস ও চিন্তা করতে উৎসাহিত করে। এই প্রযুক্তি আমাদের সামাজিক চিন্তার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করায়: মা-বাবা কিংবা আত্মীয় হওয়ার মূল ভিত্তি কি শুধুই জৈবিক বা রক্তের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, নাকি সামাজিক যত্ন, নৈতিক দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক স্বীকৃতিও এই পরিচয় গঠনে সমান বা অধিক গুরুত্ব বহন করে?

বাংলাদেশের মতো সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে হলে প্রচলিত পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যকে গভীরভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অবস্থানকে একক, অপরিবর্তনীয় বা একমুখী ধরে নেওয়া বস্তুনিষ্ঠ হবে না। একইভাবে, প্রযুক্তিগতভাবে কোনো কিছু সম্ভব হলেই তা সামাজিকভাবে, নৈতিকভাবে কিংবা আইনগতভাবে সর্বত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের দাতার পরিচয়, সন্তানের আইনি অধিকার ও উত্তরাধিকার নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট আধুনিক আইন নেই; বরং এখনো শতাব্দীপ্রাচীন The Evidence Act, 1872-এর Section 112-এর মতো প্রথাগত আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা প্রজনন প্রযুক্তির এই নতুন সামাজিক বাস্তবতায় নানাবিধ আইনি অস্পষ্টতা তৈরি করে। ফলে এসব পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও নৈতিক বিতর্কগুলো সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য গবেষণালব্ধ তথ্যের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে।

নৃবিজ্ঞানে আত্মীয়তা (Kinship) শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়। স্বীকৃতি, পারস্পরিক যত্ন, বিবাহ এবং উত্তরাধিকারের নিয়মের ভেতর দিয়েও তা গড়ে ওঠে। নতুন প্রজনন প্রযুক্তি এই ধারণায় নতুন প্রশ্ন এনেছে। ডিম্বাণু বা শুক্রাণু দানে সন্তানের জৈবিক উৎস, গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা আর সামাজিক মা-বাবার ভূমিকা আলাদা মানুষের মধ্যে ভাগ হয়ে যেতে পারে। সারোগেসিতে যিনি গর্ভধারণ করেন আর যিনি লালন-পালন করেন, তাঁদের ভূমিকাও আলাদা হয়ে যায়। ফলে মা বা বাবার একক সত্তার ধারণা এখানে বিভিন্ন মাত্রায় বিভক্ত হয়।

নৃবিজ্ঞানী সারা ফ্র্যাঙ্কলিনের (Sarah Franklin) IVF-বিষয়ক গবেষণা দেখায়, প্রজনন প্রযুক্তি শুধু চিকিৎসা নয়। এটি প্রজনন ও আত্মীয়তা নিয়ে আমাদের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। (Franklin, 2013) মা-বাবা হওয়ার ভিত্তি কি শুধু রক্ত, নাকি যত্ন, দায়িত্ব ও সামাজিক স্বীকৃতিও? বাংলাদেশে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় ধর্মীয় ব্যাখ্যা, প্রচলিত পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যবহারকারীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা—তিনটিই দেখতে হবে। কোনো একটিকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অন্যদিকে, Marcia C. Inhorn (2012)-এর গবেষণা প্রজনন প্রযুক্তির সঙ্গে পুরুষত্ব ও পিতৃত্বের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম সমাজ নিয়ে তাঁর আলোচনা দেখায়, পুরুষের বন্ধ্যত্ব কেবল একটি চিকিৎসাগত সমস্যা নয়; এটি প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণা এবং বংশপরিচয় বজায় রাখার সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে শুক্রাণু দানের প্রশ্নটি পিতৃত্ব, সন্তানের বংশপরিচয় এবং ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি করে।

প্রযুক্তির প্রশ্নের কেন্দ্রে কি মানুষের সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন?
নতুন প্রজনন প্রযুক্তিকে একদিকে নিঃশর্ত মুক্তি, অন্যদিকে নিছক শোষণ হিসেবে দেখলে এর জটিলতা বোঝা কঠিন। এসব প্রযুক্তি অনেক মানুষের জন্য সন্তান ধারণের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক চাপ, লিঙ্গভিত্তিক দায়িত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব এখানেই: এটি শুধু প্রযুক্তি কী করতে পারে, তা জানতে চায় না; প্রযুক্তি মানুষের জীবনে কী অর্থ তৈরি করে, কারা এর সুযোগ পান, কারা এর খরচ বহন করেন এবং কোন সামাজিক মূল্যবোধ এর ব্যবহারকে প্রভাবিত করে—সেসব প্রশ্নও তোলে। বাংলাদেশে প্রজনন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা তাই কেবল চিকিৎসার সাফল্য কিংবা সন্তান জন্মদানের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

আলোচনায় স্থান পাওয়া দরকার সন্তান না নেওয়ার অধিকার, চিকিৎসা বন্ধ করার স্বাধীনতা, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ, সাশ্রয়ী চিকিৎসার প্রশ্ন এবং পরিবার গঠনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি প্রযুক্তি গ্রহণ করা উচিত কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, মানুষ কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা যেমন সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তেমনি সন্তান না নেওয়া, চিকিৎসা না করানো কিংবা চিকিৎসার কোনো পর্যায়ে থেমে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সম্মান পাওয়ার যোগ্য। প্রজনন প্রযুক্তির অগ্রগতিকে মানুষের স্বাধীনতা বৃদ্ধির অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করতে হলে সেই স্বাধীনতার সামাজিক ও অর্থনৈতিক শর্তগুলোও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রযুক্তির কেন্দ্রে থাকা উচিত মানুষের সিদ্ধান্ত। নতুন প্রজনন প্রযুক্তিকে একদিকে নিঃশর্ত মুক্তি, অন্যদিকে নিছক শোষণ হিসেবে দেখলে এর জটিলতা বোঝা কঠিন। এই প্রযুক্তি অনেকের জন্য সন্তান ধারণের সম্ভাবনা তৈরি করে। একই সঙ্গে সামাজিক চাপ, লিঙ্গভিত্তিক দায়, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই আলোচনায় জায়গা পাওয়া দরকার সন্তান না নেওয়ার অধিকার, চিকিৎসা বন্ধ করার স্বাধীনতা, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ, সাশ্রয়ী চিকিৎসার প্রশ্ন এবং পরিবার গঠনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান। সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা যেমন সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তেমনি সন্তান না নেওয়া, চিকিৎসা না করানো কিংবা চিকিৎসার কোনো পর্যায়ে থেমে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সম্মান পাওয়ার যোগ্য। প্রজনন প্রযুক্তির অগ্রগতিকে মানুষের স্বাধীনতা বৃদ্ধির অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করতে হলে সেই স্বাধীনতার সামাজিক ও অর্থনৈতিক শর্তগুলোও নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যমান নীতিমালায় শুধু প্রযুক্তির অনুমোদন থাকলেও মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করা বা ‘না’ বলার আইনি সুরক্ষা নেই; নীতিমালায় প্রজননের মূল চাপ নারীকেন্দ্রিক হওয়ায় পুরুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাধ্যতামূলক প্রটোকল অনুপস্থিত; এটিকে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত না করায় সরকারি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা সাশ্রয়ী চিকিৎসার নিশ্চয়তা নেই; এবং সামাজিক চাপ সামলাতে বাধ্যতামূলক মানসিক কাউন্সেলিং ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার আইনি শর্ত রাষ্ট্র তৈরি করেনি।

নিবন্ধকার

১. সাদিয়া আলম ঐশী

২. সালমান রহমান সামি

৩. সাবরিনা হোসেন

৪. রাযীন সালেহ বিয়াশ

৫. জেরিন সুলতানা

২০তম আবর্তন, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও

প্রেম নাকি ভালোবাসার অভিনয়? জেনে নিন ৩ উপায়ে

ফিচার-লাইফস্টাইল

প্রেম নাকি ভালোবাসার অভিনয়? জেনে নিন ৩ উপায়ে

জীবনে প্রেম কখন, কীভাবে হাজির হবে, তা কেউ বলতে পারে না। আপনার সঙ্গী দিনরাত আপনাকে সময় দিচ্ছে মানেই যে আপনার প্রেমে সে বু...

২০২৬-১০-০৫ ১০:৪৯

অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজেরও আগে, এক মুসলিম নারীর হাতে গড়া যে বিশ্ববিদ্যালয়

ফিচার-লাইফস্টাইল

অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজেরও আগে, এক মুসলিম নারীর হাতে গড়া যে বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ মরক্কোর প্রাচীন শহর ফেজ। পাহাড়ঘেরা এই শহরের রাস্তাগুলো এতটাই সরু ও আঁকাবাঁকা যে, অনেক পথ...

২০২৬-১০-০২ ১৯:০৮

বীজ থেকে পুষ্টি পেতে যেভাবে খাবেন

ফিচার-লাইফস্টাইল

বীজ থেকে পুষ্টি পেতে যেভাবে খাবেন

আজকাল মানুষ নিজেদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ক্রমশ সচেতন হচ্ছে। সুস্থ থাকতে অনেকেই তাদের দৈনন্দিন খাবারে বিভিন্ন ধরণের বীজ য...

২০২৬-০৯-২৭ ১৩:০১