শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত যৌথ বিবৃতিতে শীর্ষ দুই হেফজত নেতা বলেন, ‘৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশে বিশ্বজয়ী কুরআনের হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু এমন একটি পবিত্র ও গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে ইসলামি আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবিরোধী মানসিকতার লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির বই উপহার হিসেবে প্রদান অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও মুসলমানদের ঈমানী অনুভূতিতে চরম আঘাত।’
নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, ‘পবিত্র কুরআনে সমকামিতাকে ঘোরতর অপরাধ ও সীমালঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ উক্ত লেখকের চিন্তাধারা ও বইয়ের বিষয়বস্তু ইসলামি আকাইদ ও আখলাকের পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা বা কোন ষড়যন্ত্রের কারণে এটি ঘটেছে কি না, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, হাফেজদের হাত থেকে উক্ত বই অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সেখানে উপযুক্ত ইসলামি ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ প্রদান করা হোক এবং ভবিষ্যতে সরকারি ও ইসলামিক অনুষ্ঠানে বই বা উপহার নির্বাচনের জন্য একটি দায়িত্বশীল স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করা হোক।’
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য—‘কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না’—এর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য মুসলমানদের ঈমান-আকিদার ওপর মারাত্মক আঘাতস্বরূপ। পবিত্র কুরআন কোনো মানুষের রচিত সাময়িক আইনপত্র নয়; এটি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান আল্লাহর নাজিলকৃত অনাদি ও চূড়ান্ত সংবিধান। মানুষের রচিত সংবিধান পরিবর্তনশীল ও সংশোধনযোগ্য হলেও আল্লাহর কালাম অপরিবর্তনীয় ও চিরন্তন সত্য।’
তারা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তির অবস্থান থেকে পবিত্র কুরআনের মর্যাদা ও বিধান নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা আইনমন্ত্রীকে অবিলম্বে এ বিষয়ে জাতির সামনে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তওবা করার আহ্বান জানাচ্ছি। ঈমান, ইসলামি ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে এমন যেকোনো আচরণের বিরুদ্ধে দেশের তাওহিদী জনতা সর্বদা সোচ্চার থাকবে।’