তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘দেশদ্রোহী’ বলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ‘জনগণের শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই সংবাদমাধ্যমগুলো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সামরিক অভিযানে বাধা সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের বিষয়ে ‘ভুয়া তথ্য’ প্রকাশের অভিযোগে গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলেরও হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সংবাদ প্রচার নিয়ে প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের জেরে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডেন কার ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘ভুয়া বা বিকৃত সংবাদ’ প্রচার করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। ব্রেন্ডেনের এই বিতর্কিত ও কঠোর অবস্থানের প্রতি প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট। জানা গেছে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে এবিসি, সিবিএস এবং এনবিসি-র মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ফোনে কল করে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে ট্রাম্প নিজ থেকেই জানতে চাইছেন।
পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংগুলোতেও সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ সিএনএন-এর খবরের শিরোনাম নিয়ে খুঁটিনাটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন। তবে প্রশাসনের এই হার্ডলাইন বা কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড এক্সিলরড বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, “যুদ্ধের খবর আশানুরূপ না হওয়ায় সাংবাদিকদের আক্রমণ করা হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকদের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন থেকে বিরত রাখা এবং যুদ্ধের প্রকৃত তথ্য নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করা। অনেকে বিষয়টিকে ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের সঙ্গে তুলনা করে মার্কিন সংবিধানের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল মৌখিক হুমকিই নয়, বরং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।