শনিবার (১৪ মার্চ) সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সংবাদমাধ্যম সঠিকভাবে কাজ করে, তবে রাষ্ট্রের অন্যান্য তিনটি স্তম্ভও সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে।
জামায়াত আমির আওয়ামী লীগের শাসন আমলের সমালোচনা করে বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হয়েছিল। “সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার কণ্ঠগুলো স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই রেশ এখনও অনুভূত হয়। আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে পূর্ণ মুক্তি চাই,” বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান প্রয়াত সাংবাদিক কাজী রুহুল আমিন গাজীর অবদানের কথা স্মরণ করেন, যিনি আজীবন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন এবং নিগৃহীত হয়ে কারাগারেও যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্য হামলা ও নির্যাতনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সম্পাদকদের ওপর আদালত প্রাঙ্গণেও হামলা চালানো হয়েছে। শহীদুল আলম ও কবি ফরহাদ মজহারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, “আপনারা বিবেক অনুযায়ী চলবেন। জন্ম একবার, মৃত্যুও একবার; তাই বীরের মতো লড়তে হবে। মাঝখানে কোনো আপস নেই।”
জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সাংবাদিকদের কণ্ঠের পাহারাদারি করার নিশ্চয়তা দিচ্ছে, তবে একই নিশ্চয়তা সরকারি দলকেও দিতে হবে। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “জামায়াত একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চায় এবং জাতীয় স্বার্থে কোনো আপস করবে না। সরকারি দল যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়, আমরা তাদের সোজা পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব, প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”