একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের পোশাক পরে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না; প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুক এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি প্রদানের বিষয়টি ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ অঙ্গীকারভিত্তিক। এ অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়, যা বর্তমানে সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে উপস্থাপিত।
তিনি আরও জানান, অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ২০ তারিখে কমিটিতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তাদের কেউ বেঁচে থাকুক বা মারা গিয়েছেন—সবাই অপরাধীর অন্তর্ভুক্ত। “সেই সময় যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি ছিল; জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা প্রদানের জন্যই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে এবং সারাদেশের মানুষ এতে একমত,” তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মামলা আইসিটি আইনে, কিছু সাধারণ আইনের অধীনে আদালতে রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মামলার বিচার শুরু হয়েছে এবং তা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে—পুলিশ বা যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হোক, তাদের সবাই অপরাধী। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগ যথাযথভাবে বিচার করবে।"
তিনি যোগ করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত পুলিশ সদস্যদের ফয়সালা যুদ্ধের ময়দানে হয়ে গেছে।”