তিনি বলেন, সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের ভূমিকা তুলে ধরেছেন আমির। জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ এবং বিশেষ করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি সংকটের সমাধানে জামায়াতের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদে ও সংসদের বাইরে জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। অতীতে প্রচলিত বিরোধী দলের ‘খারাপ অনুশীলন’ থেকে বেরিয়ে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অন্যায় ও গণবিরোধী কাজ প্রতিরোধে জামায়াত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্পাদকরা এ নীতির প্রশংসা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজপথে বিরোধী দলের আন্দোলন থাকলেও দেশ যাতে অস্থিতিশীল না হয়, সে বিষয়ে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন।
সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর সম্পাদকদের সঙ্গে এটিই জামায়াতে ইসলামীর প্রথম মতবিনিময় সভা বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।
এদিকে, ‘গুম’ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতার বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বক্তব্যের ক্ষেত্রে ‘স্লিপ অব টাং’ হওয়ায় সমালোচনার মুখে ভুল স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতা।
সংসদে বৈষম্যের অভিযোগ
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারি দল জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। উন্নয়নমূলক কাজ, বরাদ্দ, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় জামায়াত ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এরপরও স্পিকারের কাছ থেকে তারা ‘ইনসাফপূর্ণ আচরণ’ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ জাহিদুর রহমান ও দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি ও আতাউর রহমান সরকারসহ জামায়াতের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।