তিনি বলেছেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হলে দেশের অস্তিত্বে টান পড়তে পারে। কারণ, সামনে এই সরকারের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জনতার অধিকার পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল হিসেবে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করা হলে দেশের জন্য তা ক্ষতিকর হবে। তাই গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের একজন সাবেক নেত্রী নানাভাবে উসকানি দিয়ে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ জন্য রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সময়ে দেশের মানুষ অনেক কিছু পেয়েছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক ও উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুদু বলেন, এ বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মুখোমুখি হলেও সরকার কোনো ধরনের সন্ত্রাস মেনে নেবে না।
দ্রব্যমূল্য নিয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, একটি মহল অতীতের মতো এখনো বাজারে কারসাজির চেষ্টা করছে। সরকারের কাছে বিষয়টি নজরে রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, অতীতে তিনি অনেক অপকর্ম করেছেন। এখন গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে অতীতের কিছু ভুলের সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতে তাকে ও তার দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকবে, সমালোচনা থাকবে। গণতন্ত্রে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে। কিন্তু ঐক্য ভাঙা যাবে না। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।’
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যে কোনো বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।