এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সমালোচকদের উদ্দেশে দিয়েছেন বিতর্কিত এক বার্তা। তিনি বলেছেন, “একটু চিল করুন, রিল্যাক্স থাকুন।”
মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি, ইমিগ্রেশন জটিলতা এবং বিভিন্ন দলের ওপর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন ইনফান্তিনো বিষয়গুলোকে পুরোপুরি ফিফার নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্বকাপকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি হলো সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দিয়ে ফেরত পাঠানো। তাকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্ক হয়ে নিজ দেশে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হলেও ফিফা সভাপতি এটিকে “দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা” বলে মন্তব্য করে বড় কোনো নিন্দা জানাননি।
শুধু রেফারি নয়, বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রাও যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় সমস্যার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইরাকের এক খেলোয়াড়কে বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরান দলকে তাদের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে হয়েছে। ভিসা জটিলতা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের চলাচলেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং পরিস্থিতি সামলাতে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
টিকিটের দাম নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অনেকের অভিযোগ, টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে তদন্তও শুরু করেছেন। তবে ফিফা সভাপতি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ীই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিশ্বকাপের প্রতি আগ্রহ অভূতপূর্ব।
এছাড়া তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, তার সহযোগিতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এই বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হতো না।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফিফা সভাপতি এবং আয়োজক দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ মনে করছে, এমন পরিস্থিতিতে “চিল করুন” ধরনের মন্তব্য বাস্তব সমস্যার গুরুত্বকে হালকা করে দেখাচ্ছে।
উদ্বোধনী ম্যাচের আগে তাই মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কও বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।