সখীপুরে (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা
দক্ষিণ কুতুবপুরের শ্রীপুরপাড়া এলাকায় অবস্থিত সেকান্দর আলী পাঠাগারের সৌজন্যে আজ শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের প্রায় ৫০ জনেরও অধিক শিশু কিশোরকে বই উপহার দেওয়া হয়েছে। পাঠাগারে আগত শিশু-কিশোররা বিনামূল্যে বই উপহার পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছেন। গ্রামের ছেলে বুড়ো শিশু কিশোর সববয়সী লোকজন পাঠাগারটি দেখতে এসেছিলেন। পাঠাগারটি দেখতে আসা স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে পাঠাগারটি গ্রামের অজপাড়া গাঁয়ের ভিতরে স্থাপন হওয়ায় খুবই খুশি হয়েছেন তাঁরা।
পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ওই গ্রামের সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক শাহআলম শাজু। তিনি নিজ উদ্যোগে ও সাহিত্যপ্রেমীদের নিয়ে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে গড়ে তুলেছেন এই পাঠাগারটি। বর্তমানে পাঠাগারটিতে প্রায় হাজার তিনেক বই রয়েছে। মূলত তিনি গ্রামের তরুণ-তরুণীদের বইমুখী করতে গড়ে তুলেছেন এই পাঠাগারটি। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী পাঠক পাঠাগারে বই পড়তে আসেন।
পাঠাগার কর্তৃক শিশু কিশোরদের বই উপহার দেখতে এসেছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মোহাম্মদ সবুর রেজা। তিনি শিশু কিশোরদের উৎসাহ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য। নিজ জমিতে ও সুন্দর অবয়বে পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠা করার জন্য
শাহআলম শাজু কে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, পাঠাগারের বই পড়ার মাধ্যমে গ্রামের শিশু কিশোরদের মানবিক মানুষ হিসেবে এবং জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে পাঠাগারটি সমৃদ্ধ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও মানুষের মানুষ হিসেবে তৈরী হওয়ার জন্য শিশু কিশোরদের আগামী দিনের পথ চলায় পাঠাগারটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ পাঠাগারটিতে বই নিতে আসা ওই গ্রামের কিশোর সোহেল ও কিশোরী লিজার ভাষ্য মতে, পাঠাগার থেকে আমরা বিনামূল্যে বই উপহার পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছি। এখন থেকে আমরা আমাদের স্কুলের বই পড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে গল্প উপন্যাসের বই পড়বো। আমাদের অনেক খুশি খুশি লাগছে পাঠাগার থেকে বই পেয়ে।
সেকেন্দার আলী পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আলম শাজুর ভাষ্যমতে, অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল নিজের গ্রামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করব। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আলোকিত সখীপুর গড়ার লক্ষ্যে এবং শিশু কিশোরদের বইমুখি করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সেজন্যই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেছি। শিশুরা বই পেলে ভীষণ খুশি হয়। আজ শিশু কিশোরদের হাতে গল্প উপন্যাসের বই তুলে দিয়েছি।