শনিবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত, অনুসন্ধানের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বিষয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনমনে সৃষ্ট কৌতূহল বিবেচনায় তদন্ত কমিটির কার্যকাল আরও ১৫ কার্যদিবস বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শুধু প্রশাসনিক তদন্তেই সীমাবদ্ধ না থেকে মূর্তিগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মূর্তিগুলোর উপাদান, নির্মাণকাল এবং সত্যতা যাচাই করবেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “মহাস্থানগড় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের ধারক। তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিলের চেষ্টা চলছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ফ্রান্সে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য মহাস্থান জাদুঘর থেকে ৪৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। প্রদর্শনী শেষে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও পরবর্তীতে সেগুলোর সত্যতা যাচাই বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরীক্ষা ছাড়াই দীর্ঘদিন সংরক্ষণাগারে রাখা হয়।
সম্প্রতি গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মূর্তিগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন।
প্রত্নতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মহাস্থানগড় শুধু বগুড়ার নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতার এক অমূল্য সম্পদ। তাই সংরক্ষিত নিদর্শনগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় থাকলে তা নিরসন করা জরুরি। এখন বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইতিহাসপ্রেমী ও সচেতন মহল।
প্রশ্ন একটাই—মহাস্থানগড়ের সংরক্ষণাগারে থাকা ৪৭টি মূর্তি কি সত্যিই সেই ঐতিহাসিক নিদর্শন, নাকি ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প?