কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একইসঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে এ ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে দলটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা ছিল ভয়-দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অবসান। অথচ সেই আন্দোলনের পরও যদি নতুন পরিচয়ে একই ধরনের দখলদারি ও সন্ত্রাস ফিরে আসে, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
যৌথ বিবৃতিতে মিনার-ফুয়াদ বলেন, সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে সরকার দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। তাই এ অভিযোগকে আমলে নিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীদের পরিত্রাণের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের বিচার হতে হবে। কেউ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত হোক কিংবা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না।
তারা বলেন, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় শতাধিক মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করবে, মানুষকে কুপিয়ে আহত করবে কিংবা অফিসে ঢুকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করবে; এসব নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা হতে পারে না। এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। চাঁদার দাবিতে যদি সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে এমন তাণ্ডব চালানোর সাহস পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে। রাজধানীতেই যদি অস্ত্রের মহড়া, ভাঙচুর ও লুটপাটের এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহনের উৎস শনাক্ত, লুট হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি নেপথ্যের চাঁদাবাজিসহ রাজনৈতিক পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান দলটির এই দুই নেতা।