বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক নেতা মো. আরিফ সরকার টিয়া। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ মে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবহনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী আয়-রোজগার হারিয়ে মানবেতর অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কাউন্টার পুনরায় চালুর দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
আরিফ সরকার টিয়া জানান, গত ১২ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মধ্যস্থতায় ঢাকা মহাখালী বাস মালিক সমিতি, একতা পরিবহনের মালিকপক্ষ এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ঈদুল আজহার পর ১৫ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাউন্টার চালুর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ অবস্থায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে শ্রমিকরা বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ঢাকা-মহাখালী থেকে বগুড়া-নওগাঁ রুটে একতা পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট কোচ চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন তারা। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিক মো. ফিরোজ, শ্রী কার্তিকসহ শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।