অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. পপি খাতুন। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকান, ভ্যান এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি কিছু মালামাল জব্দ করা হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসক এমআর ইসলাম যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পথচারীবান্ধব নগর গড়ে তোলার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে এ অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে জিলা স্কুল ও সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত দখল থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে, ফুটপাত দখলের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়। অনেক ব্যবসায়ীর মার্কেটে স্থায়ী দোকান থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত লাভের আশায় তারা ফুটপাতে লোক বসিয়ে কিংবা ভ্যানে অস্থায়ী দোকান পরিচালনা করছেন।
পপি খাতুন বলেন, “প্রথম দিন হওয়ায় আমরা মূলত সতর্ক করেছি। তবে ভবিষ্যতে কেউ নিয়ম অমান্য করলে আরও কঠোরভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ফুটপাত পুনর্দখল রোধ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে শিগগিরই ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত ফুটপাত পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে অবৈধ দখল আর ফিরে না আসে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, অভিযানটি শুধু একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে বগুড়া শহরের ফুটপাত আবারও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং যানজটও অনেকাংশে কমে আসবে।