বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের দিকে জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত আবুল হাশেম ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন ফেরদৌস শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে দলীয় কার্যালয় তৈরি করেন। পরবর্তী সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি সাধারণ সম্পাদক নেতৃত্ব পাওয়ার পর কার্যালয়টি বহাল থাকে। এখান থেকেই পরিচালিত হতো দলীয় কার্যক্রম। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখর থাকতো শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা হারানোর পর জায়গার মালিকানা জটিলতায় ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলা হয়। ২০১০ সালে মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার সভাপতি ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিষ্টার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর বদলে যায় দলীয় কার্যালয়।
২০১৯ সাল পর্যন্ত ‘দলীয় ঠিকানা’ হয়ে উঠে জিয়াউদ্দিন মিষ্টারের ইসলামপুর রোডের ব্যক্তিগত কার্যালয়।
২০১৯ সালে শেখ ফরিদ বাহারকে আহবায়ক ও আলাল উদ্দিন আলালকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি গঠনের পর আবারো দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা বদল হয়।
কয়েকবছর তাকিয়া রোডের নাদিয়া হোটেল আর সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফজলুর রহমান বকুলের বাসা হয়ে উঠে নেতাকর্মীদের ঠিকানা। একপর্যায়ে ইসলামপুর রোডের দ্বিতল ভবনের একটি কক্ষকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ওই কার্যালয়টি আর ব্যবহার হয়না। ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল মিডটাউন সহ ব্যক্তিগত কার্যালয় কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের সময় দেন শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্র আরো জানায়, এই চিত্র শুধু বিএনপির নয়, সহযোগি সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল সহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের। শহরের খাজুরিয়া এলাকার রিলেশন কনভেনশন হলের ভবনের একটি কক্ষে জেলা যুবদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পরিচালিত হয় যুবদলের কার্যক্রম। রেলস্টেশন সংলগ্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমিন আফরোজ ট্রেডিং এ নেতাকর্মীদের নিয়ে সময় কাটান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল। শহরের ডাক্তারপাড়া এলাকার হোটেল মিডটাউনে বসেন ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন।
জেলা যুবদল আহবায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার জানান, “একসময় ট্রাংক রোডের ভোজন বিলাসের পেছনে একটা পার্টির অফিস ছিল। পরবর্তীতে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য বেলাল মিল্লাত শহীদুল্লা কায়সার সড়কের জায়গাটি দিয়েছিলেন। সেখানে আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে। পার্টি অফিস অবশ্যই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সবার সম্মিলিত জাযগা থাকে। আমি আশা করি এখন যারা বিএনপির নেতৃত্বে আছেন তারা পার্টির একটি ঠিকানা উপহার দেবেন।”
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক বলেন, “দল হিসেবে বিএনপি ব্যাপক জনপ্রিয়। স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে সংগঠন আরো গতিশীল হবে।”
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিষ্টার বলেন, “শহীদুল্লা কায়সার সড়কে দলীয় কার্যালয় গঠনের তৎসময়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বেশ কয়েকবার জায়গার মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার একপর্যায়ে ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাবাহিনীর সহায়তায় কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরবর্তীতে দল ক্ষমতায় না থাকায় বিভিন্ন অস্থায়ী কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চালানো হয়।”
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, “আমাদের একটা পার্টি অফিস ইসলামপুর রোডে রয়েছে। অফিসের আকার কিছুটা ছোট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন অফিস নেয়ার জন্য আমাদের দ্রুত চেষ্টা রয়েছে। ইতিমধ্যে অফিসও খোঁজা হচ্ছে।”
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, “দীর্ঘদিন পর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও মূলত ক্ষমতায় রয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। দলীয় কার্যালয় গড়ার দায়িত্বও তাদের। আমরা যারা দায়িত্বে আছি তারা দল চালাতেও হিমশিম খেতে হয়।”