বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মিডফিল্ড থাকা সত্ত্বেও ফরোয়ার্ডদের জন্য কার্যকর পাস তৈরি করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল। এমন পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—রোনালদো দলে থাকায় কি সতীর্থদের মধ্যে তাকেই বল দেওয়ার বাড়তি চাপ কাজ করে? পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের উত্তর, মোটেই না।
আগামীকাল হিউস্টনে গ্রুপ ‘কে’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় খুঁজতে নামার আগে ফ্লোরিডার পাম বিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন ২৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। তিনি বলেন, ‘তাকে (রোনালদো) বল পাস দিতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা বা প্রয়োজন আমাদের নেই।’
তবে একই সঙ্গে পর্তুগিজ অধিনায়কের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানান তিনি, ‘ক্রিশ্চিয়ানো আমাদের জন্য একটা বড় উদাহরণ। প্রতিদিন অনুশীলনে তিনি যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দেন, তা দেখে মনে হয় এটাই যেন তার ক্যারিয়ারের শেষ সেশন।’
কনসেইসাওয়ের মতে, গোল করার স্বাভাবিক ক্ষমতার দিক থেকে রোনালদোর সমকক্ষ ফুটবল ইতিহাসে খুব কমই আছেন, ‘আমি মনে করি, গোল করার যে সহজাত গুণ ক্রিশ্চিয়ানোর আছে, সেই জায়গায় তার সমকক্ষ আর কেউ নেই। কিন্তু তাই বলে মাঠে সবসময় তাকেই বল দিতে হবে, এমন কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।’
মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাস্তবতাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে এক মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে পরিস্থিতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমার নিজের কথাই যদি বলি, তখন আমি সেই খেলোয়াড়কেই বল দিই, যে ফাঁকায় থাকে এবং যাকে পাস দেওয়াটা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত মনে হয়। পাশে কে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা দেখার মতো সময় থাকে না। মাঠে আমরা বেশির ভাগ কাজই সহজাত প্রবৃত্তি থেকে করি। সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’