বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহত বাংলাদেশি কর্মীর নাম জাকির হোসেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। নিখোঁজ কর্মী মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে।
মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রাজুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আগুনে কয়েকটি মরদেহ অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ রাজুর মরদেহ সেগুলোর মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত এজিসিসিতে মঙ্গলবার এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। পরে বৃহস্পতিবার তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে বলে জানানো হয়। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক।
প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের এজিসিসি প্রকল্পটি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান সিবুর ও চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।
এজিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এদিকে আহত সাত বাংলাদেশি কর্মীর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোর বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আহতদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে কোম্পানির সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ করেছে। দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জাকিরের বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দূতাবাস।
মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যায়ণপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানান দূতাবাসের প্রথম সচিব।