মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) র্যাটক্লিফ মস্কোয় পৌঁছেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে তার সফরের উদ্দেশ্য কী কিংবা তিনি রাশিয়ার কোন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কো কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
উচ্চপর্যায়ের মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিরল। সফরটি নিয়ে মন্তব্য জানতে সিআইএ, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
এর আগে মঙ্গলবারই একটি বড় মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ায় যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজটি রিগা বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় ৫টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং প্রায় ৭টা ৪ মিনিটে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানটিকে মস্কোর বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। একই সঙ্গে মস্কোর রাস্তায় একটি কূটনৈতিক গাড়িবহর চলাচলের ভিডিওও ছড়িয়ে পড়ে।
সিআইএ পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফের এটি রাশিয়ায় প্রথম সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোয় তার গোয়েন্দা সংস্থার সমপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
রাশিয়ায় আটক রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনাকে মুক্ত করার আলোচনাতেও র্যাটক্লিফ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানা গেছে। ইউক্রেনকে সহায়তার অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর তাকে মুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তিতেও সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভাসহ বেশ কয়েকজন মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এবং দেশটির ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর র্যাটক্লিফের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার রাশিয়া সফরগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছর আলাস্কায় ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তবে সেই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। এরপর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে মঙ্গলবারই ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো। ইরানের ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন কঠিন করা। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ ও নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অর্থ ও প্রযুক্তির জোগান বন্ধ করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা।
একই সঙ্গে জাহাজ চলাচল, সোনা, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সম্পদ খাতেও বাড়ানো হয়েছে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা।
বেসেন্ট বলেন, তেহরান সরকারকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। ইরানকে শেষ পর্যন্ত একা করে দিতে চান তারা। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে কোন কোন দেশকে তিনি এ বিষয়ে বলেছেন বা কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, তা জানাননি বেসেন্ট।
সূত্র : বিবিসি