রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ এই তথ্য জানায়। হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য সম্প্রতি সংস্থাটি গঠন করেছে তেহরান। খবর রয়টার্সের
‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ জানায়, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে জরিমানা করা হতে পারে, আটক করা হতে পারে ও তাদের বহন করা পণ্যও জব্দ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরানের এই সতর্কবার্তা এলো। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হুমকি দিলে তার জবাব ‘বিধ্বংসী’ হবে বলেও এর আগে সতর্ক করেছিল ইরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রকাশ করা কালো তালিকায় রয়েছে অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি ট্যাংকার, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজিবাহী জাহাজ ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য পরিবহনকারী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান।
তালিকাভুক্ত কয়েকটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং বা ADNOC L&S-এর মালিকানাধীন। এডিএনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেভিগ৮ ট্যাংকারস ও সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরির মালিকানাধীন জাহাজও এই তালিকায় রয়েছে।
জাহাজ আটক ও পণ্য জব্দের হুঁশিয়ারি
ইরানের এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে সমুদ্রে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর বা ‘শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার’-এ অংশ নেওয়া অন্য নৌযানগুলোকেও ভবিষ্যতে এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
তবে কোন নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এসব জাহাজকে ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে জাহাজের মালিকদের ইরানের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার জন্য জাহাজগুলোকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও তথ্যসহ ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছে ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’।
হরমুজে তেল পরিবহন ব্যাহত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো। সংঘাতের কারণে ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে কিছু ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি পার করিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ সুপারট্যাংকারে পণ্য স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় এখন দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতির কারণেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী নিয়ম না মানা বা ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ প্রায় ৩০০ জাহাজের একটি কালো তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান। তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে জরিমানা, আটক এবং তাদের বহন করা পণ্য জব্দ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান এই সতর্কবার্তা দিল।