গতকাল (রোববার, ২৩ আগস্ট) সাম্প্রতিক ঘুড়ি উড়ানোর ঘটনা নিয়ে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন উড়ানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এসব উৎক্ষেপণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইডিএফের হামলা আরও জোরদার করা হবে।
এর আগে, নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় গাজা থেকে তৈরি হওয়া ‘মারাত্মক’ ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইডিএফকে ‘সবকিছু’ করার নির্দেশ দেয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইল কয়েক বছর ধরে কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে তারা বিশ্বের অন্যতম উন্নত অবস্থানে রয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে গাজা থেকে অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরাইল সীমান্তের কিব্বুতজ নাহাল ওজের দিকে উড়ে যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ঘুড়িগুলোতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি এবং সেগুলো জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করেনি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারণা, ঘুড়িগুলো হামাসের পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উড়ানো হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, হামাস দাবি করেছে, গাজা থেকে উড়ানো ঘুড়িগুলো শরণার্থী শিবিরের শিশুদের খেলনা ছাড়া কিছু নয়। সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম ইসরাইলের হুমকিকে ‘বানোয়াট অজুহাত’ হিসেবে উল্লেখ করে গাজাবাসীর বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, রোববার গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গাজার আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। আইডিএফের দাবি, নিহত ব্যক্তি হামাসের একটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রের কমান্ডার ছিলেন।
এছাড়া আজ-জাওয়াইদা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে হামলায় ছিটকে আসা ধাতব টুকরো ও ধ্বংসাবশেষে আরও দুজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, ওই এলাকায় হামাস অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলার আগে স্থাপনাটির মালিকদের এলাকা ছাড়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।
ঘুড়ি উড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে ইসরাইলি হামলার হুঁশিয়ারিতে গাজায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।