নিহত রূপন চাকমা কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাইজ্জাতলি মৌজার ভাইবোনছড়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা লক্ষছা চাকমার ছেলে। পড়াশোনার জন্য সে জীবতলীর হেডম্যান পাড়ায় তার খালু আশেনি কুমার চাকমার বাড়িতে থাকতো বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থী রূপন চাকমা প্রতিবেশীর বাড়ির কাছ থেকে পানি সংগ্রহ করতে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল স্বপন চাকমা। একপর্যায়ে স্বপন শিশুটিকে ধরে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো চাকু দিয়ে রূপনের বুকে পরপর দুইবার আঘাত করা হয়। পরে সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে তার গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করে গুরুত্বর আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত স্বপন চাকমাকে আটক করা হয়। তার বাবার নাম রিমলাল চাকমা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুর প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত স্বপন চাকমাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান, একটি শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ১২ বছরের শিশু রূপন চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।