রেজাউরের প্রশ্ন, মাছ, মাংস ও সবজির পেছনে এত টাকা খরচ হলে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার চলবে কীভাবে? তাঁর মতো অন্য ক্রেতারাও বলছেন, প্রয়োজনমতো বাজার করার সামর্থ্য কমছে। সংসারের অন্য খরচ মেটাতে খাবারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বেশি অথচ উপার্জনকারী একজন হলে চাপ আরও বাড়ছে।
মেরাদিয়া বাজারে ছোট চিংড়ি ধরনভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ট্যাংরা ৮০০ টাকা এবং অন্যান্য ছোট মাছের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের রুই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪৮০ টাকায়। বোয়াল, শোল ও মৃগেলের দামও কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা। ছোট আকারের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
রুই মাছ কিনতে আসা আব্দুর রহিম জানান, আগে একসঙ্গে দুই থেকে তিনটি মাছ কিনতেন। এখন একটি নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, পরিবারের সদস্য বেশি আর উপার্জন একজনের হলে সংসারের ভেতরে যে চাপা কষ্ট তৈরি হয়, সেটি বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
শুধু মাছ নয়, ডিম ও মাংস কেনার ক্ষেত্রেও হিসাব করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, কক ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৮২০ টাকা, খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। আলু কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা। পটল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, শিম ও করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং কাঁকরোল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম ধরনভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। টমেটো ১২০ টাকা এবং রসুন ১২০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম প্রতিটি ৮০ টাকা।
বাড়তি খরচ সামলাতে বাজারে আসার সময়ও বদলেছেন কেউ কেউ। গৃহিণী রজিনা বেগম জানান, সকালে টাটকা সবজির দাম বেশি থাকে। সন্ধ্যার দিকে এলে কখনো কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে পাওয়া যায়। তাই কম দামের আশায় দেরিতে বাজার করেন। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প অল্প করে কেনাও এখন তাঁর সংসার চালানোর কৌশল।
রোজিনা বলেন, আগের মতো পছন্দমতো বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। কোন পণ্য কতটুকু কিনলে কয়েক দিন চলবে, সেই হিসাব করেই ব্যাগ ভরতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের কেনাকাটা কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিক্রেতারাও। মাছ বিক্রেতা ইউনুস জানান, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না। আবার দাম বেশি হওয়ায় নিয়মিত ক্রেতারাও আগের পরিমাণে মাছ নিচ্ছেন না। যাঁরা একসঙ্গে কয়েকটি রুই কিনতেন, তাঁরা এখন কমিয়ে দিয়েছেন।
সবজি বিক্রেতা আব্দুল হালিমের ব্যবসাতেও একই চিত্র। আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার সবজি আনতেন। বিক্রি কমায় এখন আনছেন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার। তাঁর ভাষ্য, ক্রেতাদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও চাপে পড়েছেন।
মেরাদিয়া বাজারের এই অভিজ্ঞতায় সামনে আসছে সংসারের ব্যয় সামলানোর দৈনন্দিন লড়াই। কেউ মাছের সংখ্যা কমাচ্ছেন, কেউ সন্ধ্যার বাজারের অপেক্ষা করছেন। পছন্দের খাবারের বদলে কত কম খরচে প্রয়োজন মেটানো যায়, সেই হিসাবই কষতে হচ্ছে এখন সাধারন মানুষের।