চীনের ক্যালিফোর্নিয়া অব লঞ্চ ভেহিক্যাল টেকনোলজির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বড় কোনো গ্রহাণু যদি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে এবং সতর্ক করার সময় খুবই কম থাকে, তবে গ্রহাণুটির ভেতরে পারমাণবিক ডিভাইস পুঁতে তা বিস্ফোরণ ঘটানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। এই গবেষণাটি ‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, অতীতে বৃহৎ গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও বড় ধরনের প্রজাতি বিলুপ্তি ঘটেছিল। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে প্রায়ই শত শত মিটার চওড়া গ্রহাণু যাতায়াত করে। তাছাড়া আমাদের গ্রহের কাছাকাছি এমন অনেক বিশাল গ্রহাণু এখনও আবিষ্কার করা যায়নি, যেগুলোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আগাম সতর্কতা মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহ হতে পারে।
নাসা-র ২০২১-২২ সালের ডার্ট মিশনের মতো পদ্ধতিগুলো কম সময়ের মধ্যে বড় গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনে পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে।
নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সিমুলেশনের মাধ্যমে একটি মহাকাশযান ব্যবহার করে গ্রহাণুর গভীরে একটি গর্ত তৈরি এবং সেখানে পারমাণবিক ডিভাইস স্থাপন করে বিস্ফোরণের কৌশল পরীক্ষা করেছেন।
গবেষকরা বিভিন্ন আকারের পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং গর্তের গভীরতার কারণে গ্রহাণুর ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি হিরোশিমা আকারের বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে ১০০ মিটার চওড়া একটি গ্রহাণু পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
এছাড়া, গ্রহাণুর উপরিভাগের প্রায় ৩০ মিটার গভীরে বোমা স্থাপন করলে অগভীর বিস্ফোরণের তুলনায় এর গতি পরিবর্তনের মাত্রা তিন গুণ বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক কিলোমিটার আকারের কোনো গ্রহাণুর ক্ষেত্রে ২০ মিটার গভীরতায় বিস্ফোরণ ঘটালে তা পৃথিবীকে এড়িয়ে সেকেন্ডে ৩০ সেন্টিমিটারেরও বেশি গতিতে দূরে সরে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণাটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিশাল আকারের বা স্বল্প সতর্কতার গ্রহাণুগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পনা ও ডিজাইন করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রদান করবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।