সাক্ষাৎকারে তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘মানুষ তো কষ্ট পায় প্রেম থেকেই, তাই না? আমিও ঠিক তেমনি একটি প্রেমে কষ্ট পেয়েছিলাম। আসলে, সেই মানুষটিও মিডিয়াতেই কাজ করত। তখন আমি মিডিয়ায় আসিনি, কেবল মিউজিক করতাম। কোনো এক কারণে মিডিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর ওই মানুষটা একদম বদলে যায়।’
সেই অতীত অভিজ্ঞতাই তৌসিফের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তৌসিফের কথায়, ‘এরপর যখন আমার মিডিয়ায় আসার সুযোগ হলো, তখন আমি মনে মনে ঠিক করেছিলাম আমি এই মাধ্যমে আসব ঠিকই, কিন্তু কখনোই বদলে যাব না। বাস্তবে সেটাই হয়েছে। বয়সের দিক থেকে হয়তো আমি বড় হয়েছি, কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম দিন থেকে যারা আমাকে চেনে, তারা এখনো বলবে যে এই ছেলেটা একদম আগের মতোই আছে।’
শোবিজ দুনিয়ায় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছালেও ‘তারকা’ বা ‘স্টার’ তকমা নিয়ে ভিন্ন ভাবনার কথা জানান। তৌসিফ বলেন, ‘আমি ‘স্টার’ হওয়ার ধারণাটিতে বিশ্বাসই করি না। আর বিশ্বাস করি না দেখেই আসলে আমার মধ্যে অহংকার বা পরিবর্তন আসা সম্ভব নয়। কেউ আমাকে যতই নিচে ফেলে দিক কিংবা যতই ওপরে তুলে দিক, আমাকে বদলে ফেলা যাবে না।’
নিজের পারিবারিক শিক্ষার কথা উল্লেখ করে এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘যদি সুনির্দিষ্ট কোনো গুণের কথা বলতে হয় যা কখনোই বদলায়নি, তা হলো মানুষকে সম্মান দেওয়া। আমি প্রতিটি মানুষকে সবসময় সম্মান জানাতে চাই। এটা ছোটবেলায় পরিবার থেকে শিখেছি। তাছাড়া একবার একটি বইয়ে পড়েছিলাম একটি মানুষকে যদি সত্যি সত্যি চিনতে চাও সে কেমন, তবে লক্ষ্য করো সে তার চেয়ে নিচের শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে। আর এই আচরণটা ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনের হতে হবে।’
পড়াশোনা ও চারপাশের পরিবেশ থেকে নেওয়া এই শিক্ষা তৌসিফ নিজের জীবনের লগ লাইন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি জানান, মিডিয়ায় আসার অনেক আগে থেকেই এই নীতি তিনি মনেপ্রাণে ধারণ করছেন এবং আমৃত্যু তা মেনে চলতে চান।