আপনি কি এমন পরিবেশের শিকার? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি যে কথাটি বলতে বা বোঝাতে চেয়েছি, তা বোধকরি বুঝতে পেরেছেন। আমাকে কেন দেশের বাইরে যেতে হল, আরেকটু পরিস্কার করে বললে, কেন আমাকে অভিনয় ছেড়ে সতের-আঠারো বছর ধরে বিদেশ-বিভূঁইয়ে থাকতে হয়েছে, হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর মিডিয়ায় অজানা নয়। একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পীর জন্য এটা এক ধরনের মৃত্যু। দেখুন, নব্বই সাল থেকে অভিনয় করি। সাড়ে তিনশ নাটকে অভিনয় করেছি। একজন অভিনয় শিল্পীর জন্য এই দীর্ঘ সময় পাড়ি দেয়া অনেক পরিশ্রমের বিষয়। এই সময় স্রোতে হাল ধরে এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এর মধ্যে যদি প্রবল বাধা আসে, তাহলে তো সেই শিল্পীর শিল্পীসত্ত্বার মৃত্যু ঘটা স্বাভাবিক। আমি যে সতের-আঠারো বছরের কথা বললাম, এই সময়টা আমার অভিনয়ের স্রোতধারায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সঙ্গতকারণেই স্রোতধারাটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই যে আমার বিদেশ থাকা, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটা তো আমার জন্য নয়। এটা অত্যন্ত কষ্টের। এদেশ আমার, এদেশের সন্তান আমি, এদেশে আমার সবকিছু। এর বাইরে চলে যাওয়া বা চলে যেতে বাধ্য হওয়া কতটা যন্ত্রণা এবং কষ্টের, তা বোঝানো খুবই কঠিন। হ্যাঁ, ওখানে আমি ভালো আছি। ভালো জব করি। দেশেও আমাদের পারিবারিক বিজনেস রয়েছে। অথচ যে সময়টা আমাকে বিদেশ কাটাতে হয়েছে এবং হচ্ছে, এসব ছেড়ে যেতে আমাকে বাধ্য হতে হয়েছে। এখন কি ফিরবেন? এটা নির্ভর করছে, যদি মনে হয়, দেশে আমার ফেরা এবং কাজ করার পরিবেশ উপযুক্ত, তাহলে ফিরব। ফিরব, কাজ করব এবং ফিরে যাব এমন একটা প্রক্রিয়া হয়ত আমাকে অবলম্বন করতে হবে।’
বাধা কি কেটেছে? ‘বুঝতে পারছি, দেশে কাজ করার মতো পরিবেশ ঠিক হচ্ছে। একটা সুষ্ঠু পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। অভিনয়ে কি ফিরবেন? এটা কিন্তু আমার রক্তে মিশে আছে। এটাই আমার শেকড়, ভিত্তি। দীর্ঘ সময়ের যে বিরতিটা দিতে হয়েছে, সে সময়টা তো আর ফিরে পাব না। জীবনের অনেক কিছু বদলে গেছে। পেশা পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে যদি নিজের উপযুক্ততা অনুযায়ী, কাজ করার সুযোগ আসে, আগের মতো করা সম্ভব হবে কিনা জানি না, তবে অভিনয়ের যে তৃষ্ণা রয়েছে, তা কিছুটা হলেও মিটাতে পারব।’
এই অভিনেতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ ডিপার্টমেন্টের অধীনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিনয়ে ফেরা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সতের-আঠারো বছরের যে গ্যাপ সেটা পূরণ করে থিতু হতে একটু সময় লাগবে। যতটুকু পারব, ততটুকু করব।’