মাধুরী বলেন, ঐশ্বরিয়া গত ২০ বছর ধরে নিয়মিত কান উৎসবে যাচ্ছেন এবং পুরো দেশকে গর্বিত করেছেন। মিস ওয়ার্ল্ড এবং একজন শিল্পী হিসেবে দেশের জন্য তাঁর অবদান অনেক। তাঁকে কোনো ওজনের সংখ্যা বা বয়সের ফ্রেমে আটকে রাখা যায় না, কারণ তিনি শুধু বাইরে থেকেই নন, ভেতর থেকেও একজন সুন্দর মানুষ। ২০০২ সাল থেকে কানের নিয়মিত মুখ ঐশ্বরিয়া সম্প্রতি ২০২৬ সালের আসরে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি শুরু হয়।
মাধুরী মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই ট্রলিং সংস্কৃতি তরুণ প্রজন্মের কাছে খুব ভুল একটি বার্তা পাঠাচ্ছে। এতে মনে হয় মানুষের মূল্য তার কাজের বা অর্জনের ওপর নয়, বরং বাহ্যিক চেহারার ওপর নির্ভর করে। অতীতেও এমন সমালোচক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সবার সামনে এভাবে বিষোদগার করার প্ল্যাটফর্ম ছিল না, যা এখন সবার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ডিজিটাল যুগে সিনেমা শুরু হতে না হতেই যেমন প্রতিক্রিয়া চলে আসে, ঠিক তেমনি যেকোনো ট্রলও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে।
ঐশ্বরিয়ার সমর্থনে কথা বলেছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরিও। অনন্যা পাণ্ডে ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ঘরে বসে আরাম করে অন্যকে নিয়ে মন্তব্য করা খুবই সহজ। কিন্তু এঁরা প্রত্যেকেই কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তৃপ্তির মতে, দর্শক টাকা ও সময় খরচ করে সিনেমা দেখেন বলে শিল্পীর অভিনয় বা কাজ নিয়ে সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার তাঁদের আছে। কিন্তু কাজের সমালোচনা বাদ দিয়ে যখন কারও ব্যক্তিগত চেহারা টেনে আনা হয়, তখন সেটা অত্যন্ত বিরক্তিকর ও দুঃখজনক।
প্রসঙ্গত, ঐশ্বরিয়ার পক্ষে সোচ্চার হওয়া এই দুই তারকা—মাধুরী দীক্ষিত ও তৃপ্তি দিমরিকে শিগগিরই একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে। তাঁদের অভিনীত ডার্ক কমেডি ঘরানার চলচ্চিত্র ‘মা বেহেন’ আগামী ৪ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।