বগুড়া শহরের ব্যস্ত এলাকায় চকচকে ও আকর্ষণীয় ‘ভাইবোন’ ফুচকা-চটপটির আউটলেট। বাইরে থেকে দেখলে পরিচ্ছন্নতা আর রুচিশীল পরিবেশের ছাপ। অথচ সেই চাকচিক্যের আড়ালে খাবার তৈরির মূল কারখানায় মিলল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। রান্নার টেবিলের পাশেই ইঁদুর ধরার ফাঁদ, মাথার ওপর কবুতরের খাঁচা। খাঁচা থেকে পড়া বিষ্ঠা ও ময়লা পড়ছিল প্রস্তুত করা খাবারে।
শুধু তাই নয়, কারখানায় পাওয়া গেছে কয়েক দিন আগে সেদ্ধ করা পচা ডিম, পচা ও মানহীন গাজর-শসা এবং ফুটন্ত গরম টক সংরক্ষণের জন্য নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্র। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব খাবার প্রস্তুতের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটির কার্যক্রম ১২ দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায় ‘ভাইবোন ফুচকা ও চটপটি’র মূল কারখানায় যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, কারখানাটিতে খাবার তৈরির জায়গার আশপাশে ইঁদুরের উপস্থিতির চিহ্ন ও ইঁদুর ধরার ফাঁদ পাওয়া যায়। একই স্থানে থাকা কবুতরের খাঁচা থেকে বিষ্ঠা ও ময়লা খাবারে পড়ার সুযোগ ছিল। ফলে প্রস্তুতকৃত খাবার সরাসরি জীবাণু ও দূষণের ঝুঁকিতে ছিল।
এ ছাড়া ফুটন্ত গরম টক ফুড-গ্রেডবিহীন প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা হচ্ছিল। কারখানায় পাওয়া যায় কয়েক দিন আগে সেদ্ধ করা পচা ডিম। ফুচকা ও চটপটিতে ব্যবহারের জন্য রাখা গাজর ও শসারও বড় একটি অংশ ছিল পচা ও মানহীন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল বলেন, “বাইরের চাকচিক্যের আড়ালে কারখানাটির পরিবেশ ছিল স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। ইঁদুরের উপদ্রব, কবুতরের বিষ্ঠা এবং পচা কাঁচামাল দিয়ে খাবার তৈরির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেছে।”
তিনি জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে পরিবেশ উন্নত করার জন্য ১২ দিনের সময় চেয়েছে। এ সময় কারখানাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে পরিবেশ সন্তোষজনক মনে করলে পুনরায় কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হবে।
বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাসেল বলেন, নিয়মিত ভেজালবিরোধী মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। নন-ফুড গ্রেড পাত্রে গরম খাবার রাখা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর পাশাপাশি কারখানার সার্বিক পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর।
তিনি বলেন, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চকচকে আউটলেটের সামনে ক্রেতার ভিড় থাকলেও সেই খাবার কোথায়, কী পরিবেশে এবং কী উপকরণে তৈরি হচ্ছে—মালতিনগরের এই অভিযান সেই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এনেছে।