বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন এবার সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনায়। অলিম্পিকের বহু সফল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পেছনের কারিগর মার্কো বালিচের পরিকল্পনায় প্রতিটি ভেন্যুতে ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিন দেশের আলাদা আলাদা সংস্কৃতিকে তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্বকাপের বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তোলাই এবারের মূল লক্ষ্য।
কানাডার অনুষ্ঠানকে উপস্থাপন করা হচ্ছে ‘কালচারাল মোজাইক’ হিসেবে, যেখানে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হবে। মেক্সিকোতে দেখানো হবে ঐতিহ্যবাহী পাপেল পিকাডো শিল্পের নান্দনিকতা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থাপন থাকবে আধুনিক ঝলমলে ও গ্ল্যামারাস আবহে, যেখানে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীকী উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ প্রায় সাড়ে ১৬ মিনিটের একটি জমকালো পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত তারকা শাকিরা, জে বালভিন, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী টাইলা। এই আয়োজন ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা পুরো উৎসব উপভোগ করতে পারেন।
কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় টরন্টোতে। সেখানে পরিবেশনায় থাকবেন অ্যালানিস মরিসেট ও মাইকেল বুবলে। এই আয়োজনের পর রাত ১টায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রথম ঘরের মাঠের অভিজ্ঞতা পাবে কানাডা।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোরের দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুরু হবে আরেকটি জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, লিসা এবং অনিতার মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। এরপর শনিবার সকাল ৭টায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিটি ভেন্যুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেলোয়াড়দের জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হবে। ম্যাচ শুরুর ২৫ মিনিট আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে প্রবেশ, পরিচিতি ও অন্যান্য নিয়ম-কানুন সম্পন্ন হবে।
দিনের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে, যেখানে রাত ১টায় মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের পর আবারও এই দুই দল বিশ্বমঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে, যা বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপের সব উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ বাংলাদেশের দর্শকরা টি-স্পোর্টসের মাধ্যমে সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন।