রয়টার্স জানায়, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী উভয় নেতা নিশ্চিত ছিলেন— ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তেহরানের একটি কম্পাউন্ডে জরুরি বৈঠকে বসবেন। নেতানিয়াহু এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে একটি ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের অভিযান চালানোর প্রস্তাব দেন। ইসরায়েলি সমরকৌশলে এটি পরিচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল ঐতিহাসিকভাবে বিরল।
নতুন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সেই বৈঠক শনিবার রাত থেকে সরিয়ে সকালে আনা হলে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। নেতানিয়াহু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পকে বোঝান— খামেনিকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার একমাত্র সুযোগ।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের কথিত ভাড়াটে খুনি নিয়োগের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নেতানিয়াহু তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন, এই ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ নেওয়ার সবচেয়ে সঠিক সময় এখনই, আর এর চেয়ে ভালো সুযোগ পুনরায় আসবে না।
যদিও ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছিলেন, কিন্তু ঠিক কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে এই বিশাল ঝুঁকি নেওয়া হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। রয়টার্সের সূত্রে জানা যায়, নেতানিয়াহুর ফোনালাপটি ট্রাম্পের কাছে ‘শেষ যুক্তি’ হিসেবে কাজ করে। ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে প্রলুব্ধ করেন, ইতিহাসের পাতায় তার নাম অমর হয়ে যাবে যদি খামেনিকে নির্মূল করা হয়।
নেতানিয়াহু যুক্তি দেন, খামেনির মৃত্যু ইরানি সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামতে উৎসাহিত করবে এবং ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইসলামিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত এই শাসনব্যবস্থার মূল হোতা নির্মূল হলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎসও কমে যাবে।
এই প্ররোচনা এবং খামেনিকে হত্যার ‘ক্লোজিং উইন্ডো’ ট্রাম্পকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালানোর চূড়ান্ত আদেশ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেই ইরানের ওপর প্রথম দফায় বোমা হামলা শুরু হয়, এবং সেই দিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি ফোনালাপের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও জানিয়েছিলেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পথ চিরতরে বন্ধ করা।
নেতানিয়াহু পরবর্তীতে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং দাবি করেছেন, ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা কারও নেই। তবে পর্দার অন্তরালের এই কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণই শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো এক ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা করে।