গত কয়েক বছর ধরে মাগুরায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি, পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ঠিকাদার ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম,নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদান, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
এছাড়া প্রায় ২১ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ, ই-জিপি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে কথিত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, কাজ না করেই বিল উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্প তদারকিতে গাফিলতির বিষয়েও একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তদন্তের দাবিও ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতির কারণে সরকারি সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ে আবু বকর সিদ্দিক বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাগুরার নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আবু বকর সিদ্দিককে লালমনিরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ২৪ জুলাই অপরাহ্ন থেকে তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন। বদলির খবরে জেলার বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অনেকেই এ বদলিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শুধুমাত্র বদলি নয়,তার দায়িত্বকালীন সময়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বে কে আসছেন,তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে অফিসটির কর্মচারী ও নুর ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজ করার একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে,স্থানীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ বলছেন তিনি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে কুক্ষিগত করে একাধিক কাজ পরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগের দোসরদের মাধ্যমে।তবে কেন আইনের আওতায় তাকে আনা হচ্ছে না তদন্ত করা হচ্ছে না মর্মে অভিযোগ তোলেন ঠিকাদার মালিকপক্ষরা।জেলার গুরুত্বপূর্ণ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পগুলোর গতি অব্যাহত রাখতে দ্রুত নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।