অন্যদিকে ফলাফলের চরম বিপর্যয় ঘটিয়ে ০% পাসের খাতায় নাম লিখিয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শতভাগ পাসের গৌরব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উচ্ছ্বাসে ভেসে গেলেও, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে গভীর কষ্ট ও ক্ষোভ নিয়ে সময় পার করছেন। বোর্ডের প্রকাশিত তথ্যসূত্রে শতভাগ পাসের মাইলফলক স্পর্শ করা ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ সদরের স্বনামধন্য বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ মোমেনশাহী, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, আইডিয়াল মডেল একাডেমি এবং ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এছাড়া ফুলবাড়ীয়ার ভালুকজান মডার্ন গার্লস একাডেমি, ভালুকার নলুয়াকুড়ি কুমারী মারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুরের ইসলামপুরের উত্তর গোয়ালের চর আইডিয়াল হাই স্কুল, সরিষাবাড়ীর চিলড্রেনস হোম পাবলিক স্কুল এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়ার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ এই সাফল্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের অনন্য কৃতিত্বে আনন্দিত সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে উঠে এসেছে ৪টি প্রতিষ্ঠানের চরম ব্যর্থতার চিত্র, যেখানে কোনো শিক্ষার্থীই পাসের মুখ দেখতে পায়নি। শতভাগ ফেল করা বা শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— জামালপুরের সরিষাবাড়ীর চাপার কোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মুক্তাগাছা কলেজ, ফুলবাড়ীয়ার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জামালপুরের ইসলামপুরের কদমতলী কারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। একই বোর্ডে ফলাফলের এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধান নিয়ে তৈরি হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনা। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, যে চার প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেখানে শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল মারাত্মকভাবে ব্যাহত। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।